পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে ২২ জেলার ১০৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে গণনা। রবিবার (৩১ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে একটানা ভোটগ্রহণ চলে বিকাল চারটা পর্যন্ত। আগের তিন ধাপের মতো এ ধাপেও ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের কোনও নাশকতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে অনিয়মের অভিযোগে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সবকটি কেন্দ্রে, বুড়িচংয়ের একটি এবং মুন্সীগঞ্জের তিনটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের একটি কেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে, ঢাকার ধামরাইয়ে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে একজন প্রিসাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়।
চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৫১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪০৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১০৭ উপজেলায় মোট ভোটার দুই কোটি ৭৩ লাখ ৭ হাজার ৩৪১ জন। ভোটকেন্দ্র ১০ হাজার ৩৮৯টি এবং কক্ষ ৬৭ হাজার ৯৭৯টি।
বাংলা ট্রিবিউনের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। গজারিয়া উপজেলার ২ নম্বর ভবেরচর ওয়াজের আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯ নম্বর লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২ নম্বর বৈদ্যের গাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। কেন্দ্রগুলোতে ভোটার সংখ্যা যথাক্রমে দুই হাজার ৫৩৮টি, দুই হাজার ৩৫টি ও তিন হাজার ৬৬১। দুপুর একটা থেকে এসব কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। শনিবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বরাবো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা হয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। আটক দুজন হলেন— কাঁচপুর ইউনিয়নের আমির হোসেনের ছেলে সুমন (২১) ও জামানের ছেলে খোকন (২০)।
এদিকে, নির্বাচনে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ইসি কঠোর অবস্থানে ছিল। নির্বাচন শুরুর আগেই পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও একাধিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে ইসি। এছাড়া ৪৮টি উপজেলায় অতিরিক্ত বিজিবি দায়িত্ব পালন করে। বিজিবির পাশাপাশি অতিরিক্ত র্যাবও মোতায়েন ছিল। নির্বাচনি মাঠ পর্যবেক্ষণ করে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তারা।
চতুর্থ ধাপে ১২২টি উপজেলার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচটি উপজেলার সবগুলো পদের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ওই উপজেলাগুলোতে কোনও ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এ ধাপে ৩৯ জন চেয়ারম্যানসহ ৮৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। চারটি উপজেলায় আদালতের নির্দেশে ও দুটি উপজেলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়। এছাড়া তৃতীয় ধাপের ছয়টি উপজেলার ভোট স্থানান্তর করে এ ধাপে আনা হয়।
চতুর্থ ধাপে ছয়টি উপজেলার ভোট আগেই স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে আদালতের আদেশে খুলনার ডুমুরিয়া, ফেনীর ছাগলনাইয়া, ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও কুমিল্লার বরুড়া এবং অনিয়মের কারণে ইসি নিজেই নোয়াখালীর কবিরহাট ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ভোট স্থগিত করে। নির্বাচনে ছয় উপজেলায় ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। উপজেলাগুলো হলো- বাগেরহাট সদর, ফেনী সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, ময়মনসিংহ সদর ও পটুয়াখালী সদর।
যেসব উপজেলায় ভোট হয়েছে
চতুর্থ ধাপে নিম্ন লিখিত উপজেলাগুলোতে ভোট হয়েছে। যথা: পটুয়াখালী সদর, দশমিনা, গলাচিপা, কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, দুমকী ও বাউফল; ভোলা জেলার দৌলতখান, তজুমুদ্দিন ও লালমোহন; বরগুনা জেলার সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা; পিরোজপুর জেলার সদর, ইন্দুরকানী, কাউখালী, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ ও নাজিরপুর; যশোর জেলার সদর, বাঘারপাড়া, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর; খুলনা জেলার দিঘলিয়া, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা ও বটিয়াঘাটা; বাগেরহাট জেলার সদর, মোংলা, রামপাল, মোরেলগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা, চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট; ময়মনসিংহ জেলার সদর, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, ফুলপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলবাড়িয়া, গৌরীপুর, নান্দাইল, মুক্তাগাছা ও ভালুকা; মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর, সিরাজদিখান, লৌহজং, শ্রীনগর, গজারিয়া ও টংগীবাড়ী; নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার, সোনারগাঁও ও রূপগঞ্জ; ঢাকা জেলার ধামরাই, দোহার ও নবাবগঞ্জ; টাঙ্গাইল জেলার সদর, ধনবাড়ী, মধুপুর, মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ঘাটাইল, ভূঞাপুর, কালিহাতী, গোপালপুর, বাসাইল ও সখীপুর, নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর; কুমিল্লা জেলার তিতাস, চান্দিনা, মুরাদনগর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, মেঘনা ও হোমনা; নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী, সুবর্ণচর ও চাটখিল; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর, সরাইল, আখাউড়া, আশুগঞ্জ, নাসিরাবাদ ও নবীনগর; ফেনী জেলার সদর, ফুলগাজী, সোনাগাজী ও দাগনভুঞা; চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, কক্সবাজার সদর; দিনাজপুর সদর; কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ।