‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা খুবই জরুরি। তাই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরদের (ভিসি)।’
শনিবার (৬ এপ্রিল) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে ভারত-বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দীপু মনি।
দীপু মনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতবাসী আমাদের পাশে ছিল। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের মানুষ একইরকম আর্থ-সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী। এ অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনাও কাছাকাছি। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান ও সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব। তাই এ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু হলে তা যুগের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ অঞ্চল বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতার কেন্দ্র (Intellectual Powerhouse) হিসেবে গড়ে উঠবে। দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা এই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে খুবই জরুরি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠাও জরুরি। আর এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিদের ভূমিকা রাখতে হবে।’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মো. ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে কনভেনশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন– বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান, মেঘালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর মো. মাহবুবুল হক, গোহাটী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ড. মৃদুল হাজারিকা প্রমুখ। এ ছাড়া, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, রেজিস্ট্রার ও শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গোহাটী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ড. মৃদুল হাজারিকা বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে আমরা আজ বিভক্ত। কিন্তু আমাদের মাঝে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে।’
ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, ‘চট্টগ্রাম পোর্ট প্রায় একহাজার বছরের পুরাতন। বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য এ পোর্টকেন্দ্রিক ছিল। এ অঞ্চলের ভাষা, শিল্প-সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য একই রকম। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে আমরা আজ দুই দেশের নাগরিক।’
তিনি আর বলেন, ‘মানুষের মন, স্পিরিট ও সংস্কৃতিকে ভাগ করা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একাডেমিক একচেঞ্জ প্রোগাম চালু করে আমরা সেতুবন্ধন রচনা করতে পারি।’