বাংলাদেশে ভ্রমণবিষয়ক সতর্কতা জারির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ব্যাপারে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশে ভ্রমণবিষয়ক এক সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের এক সভায় যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনার নির্দেশ দেন। এ প্রেক্ষাপটে মাইক পম্পেও’র সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছেন একে আবদুল মোমেন।
জানা গেছে, সোমবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান চার্লস কুপারম্যানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিন ব্যুরো প্রধানের সঙ্গেও তার বৈঠক হবে। ব্যুরো তিনটি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো; গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম ব্যুরো এবং জনসংখ্যা, উদ্বাস্তু ও অভিবাসনবিষয়ক ব্যুরো। এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর পরদিন মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ সিনেটর ক্রিস মারফি ও ইউএসএইডের প্রধান মার্ক গ্রিনের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। ক্রিস মারফি সিনেটে দক্ষিণ এশিয়া ও কাউন্টার-টেরোরিজম বিষয়ক উপকমিটির র্যাংকিং সদস্য।
তার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গা, ইন্দো-প্যাসিফিক, শ্রমাধিকার, অভিবাসন ও গণতন্ত্রসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বলার পরে সামনে চলে এসেছে এবং এটি পম্পেও এবং কুপারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রস্তাব আছে কিন্তু আমরা এ বিষয়ে এখনও কিছু তাদের জানাইনি ‘
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, সেখানকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোনও দেশকে বিস্তারিত তথ্য দিতে গেলে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে হয়, অন্যথায় তারা কেবল প্রাথমিক তথ্য দিতে পারে বলে তিনি জানান।
পম্পেও’র সঙ্গে বৈঠক
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গা, ইন্দো-প্যাসিফিক, শ্রমাধিকার, অভিবাসন ও গণতন্ত্রসহ সব বিষয় নিয়ে পম্পেও’র সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা হবে।
সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী এবং তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। এর বেশিরভাগই জ্বালানি খাতে করা। দেশটি চাইলে জ্বালানি খাতে আরও বিনিয়োগ করতে পারে এবং আমরা তাদেরকে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে চাই, যেখানে তারা কারখানা স্থাপন করতে পারবে বলে তিনি জানান।
আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্র যেন মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখে এবং এই সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা বজায় রাখে।
তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি যুক্তরাষ্ট্রের ইস্যু এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে আমরা উন্মুক্ত, স্বাধীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আইনভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল চাই।
দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি কিছুটা সময় নেবে কারণ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির দুটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
এই দুটি বিষয়ে তাদের ধারণা এবং আমাদের চিন্তা এক নয় এবং আমাদের দুই পক্ষ সম্মত হয় এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে হবে।
কুপারম্যানের সঙ্গে বৈঠক
রোহিঙ্গা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা, বঙ্গবন্ধু খুনির প্রত্যাবাসন, কাউন্টার-টেরোরিজম, উগ্রবাদ মোকাবিলা, তথ্য আদান-প্রদান ইত্যাদি বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হবে।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ দমনে জোরদার সহযোগিতা আছে এবং আমরা এটি অব্যাহত রাখতে চাই।
তিনি বলেন, ‘কীভাবে আমরা সহজে তাদের কাছ থেকে তথ্য পেতে পারি সে বিষয়ে কুপারম্যানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা আছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী রাশেদ চৌধুরী একজন সন্ত্রাসী এবং আমরা এ বিষয়টি জোর দিয়ে তাদেরকে বলবো ও বোঝানোর চেষ্টা করবো।
সিনেটরের সঙ্গে বৈঠক
রোহিঙ্গা, সন্ত্রাসবাদ দমন, রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত আনাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে ক্রিস মারফির সঙ্গে আলোচনা হবে।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তার কাছে রোহিঙ্গা বিষয়ে এবং রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করবো। আমরা তাকে বলবো রাশেদ চৌধুরী ১৯৭৫ সালে কী সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছিল।’
ইউএসএআইডির সঙ্গে বৈঠক
রোহিঙ্গা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মানবিক সহায়তা অব্যাহত দেখতে চায় বাংলাদেশ এবং এ ইস্যু নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন গ্রিন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আরও যেসব প্রকল্পে সহায়তা করছে সেগুলোর বিষয়ে আলোচনা হবে।