রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে কাজাখস্তানের সহায়তা এবং সমর্থন চেয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রবিবার (৭ এপ্রিল) কাজাখস্তান মজলিস অব পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান নুরলান নিগামাতুলিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহায়তা চান। কাতারের দোহায় একটি হোটেলে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (৮ এপ্রিল) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ পরিচালক মো. তারিক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্পিকার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদার মানসিকতার উদাহারণ হিসেবে মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই বছর পার হয়ে গেলেও রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে এ বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও মিয়ানমারের আন্তরিকতার অভাবে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে না।’
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে কাজাখস্তানের ভূমিকা ও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে এ সময় স্পিকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরিতে কাজাখস্তানের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে কাতারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের মধ্য পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়নের রোল মডেল। দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সংসদ উপনেতা, বিরোধী দলের উপনতাও একজন নারী।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাজাখস্তান সফর ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। পারস্পরিক সফর বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী টানা তৃতীয়বারের মতো স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় কাজাখস্তান মজলিস অব পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাণিজ্য প্রসারে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি সেপ্টেম্বরে কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপ-এশিয়া (ইউরোশিয়া) ইন্টার পার্লামেন্টারি সম্মেলনে স্পিকারকে যোগদানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমদ খান এবং কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমদ উপস্থিত ছিলেন।