বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও একাদশ জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আট বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরী নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। এরা দুজনই প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়। জায়ান চৌধুরী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীরও নাতি।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের শুরুতে শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় নিহত জায়ান চৌধুরীসহ ২৫৩ জনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় মশিউল হক চৌধুরীসহ আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করে এ ধরনের জঘন্য ঘটনার নিন্দা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় যেদিন (২১ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে, প্রধানমন্ত্রী সেদিন তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ব্রুনাই রওনা হন। ব্রুনাই পৌঁছার আগেই পথিমধ্যে তিনি শ্রীলঙ্কায় সংঘটিত জঙ্গি হামলার বিষয়ে অবহিত হন এবং তিনি ব্রুনাইতে পৌঁছেই জায়ান চৌধুরীর মৃত্যুর দুঃসংবাদ শোনেন।
জানা গেছে, তিনদিনের সফর শেষে ২৩ এপ্রিল ব্রুনাই থেকে দেশে ফিরে রাতেই তিনি গণভবনে তিন বাহিনীর প্রধানসহ পুলিশ প্রধান, বিজিপি প্রধান এবং দেশের গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যে কোনও ধরনের জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, পরের দিন পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারীর বাসায়ও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বৈঠক হয়। এদিকে ব্রুনাই সফর সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইঙ্গিত করেছেন, বাংলাদেশেও একই ধরনের জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভা বিভাগের সিনিয়র সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) ড. শামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার এবং এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্যকে এ ধরনের যে কোনও হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী তার নির্দেশনায় আমাদের বলেছেন, বাঙালি জাতি রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। এ দেশকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পরিবারসহ জীবন দিয়েছেন। রক্তের বিনিময়ে আমাদের সমস্ত অর্জন ম্লান করতে দেশি বিদেশি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র এখনও চলছে। তাই জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা হতে পারে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ আমাদের সব এমপি, জনপ্রতিনিধি এবং আমাদের নিজ নিজ এলাকায় মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলারও পরামর্শ দিয়েছেন।