চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি বাস্তবসম্মত নয়: প্রধানমন্ত্রী

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘৩৫ বছরে যদি কেউ চাকরিতে প্রবেশ করে, ট্রেনিং নিতে নিতে তাদের বয়স ৩৮ বছর হয়ে যাবে। ৩৮ বছরে যে চাকরিতে প্রবেশ করবে তাকে ২২ বছরের মতো চাকরি করে অবসর নিতে হবে। তারা তো পূর্ণাঙ্গ পেনশন পাবে না। তাই এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।’
তিনি বলেন, ‘২১ থেকে ২৫ বয়সীদের মধ্যে মেধা, মনন ও দক্ষতা বেশি থাকে। বয়সসীমা বাড়ানো হলে নতুন চাকরি দেওয়া যাবে না। কেউ অবসরে যাবে না, পদ খালি হবে না, তাই চাকরি দেওয়াও যাবে না। তখন চাকরি দেবেন কীভাবে? শুধু দাবি তুললেই হবে না, যারা আন্দোলন করেন তাদের এসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে।’ মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্যরা যোগ দেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।


পুঁজিবাজার নিয়ে গেম খেলার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা
সরকারপ্রধান বলেন, পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তবে পুঁজিবাজার নিয়ে কেউ কোনও ধরনের গেম খেলার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার থেকে যা যা করার তা করে যাচ্ছি। পুঁজিবাজার তো অনেকটা জুয়া খেলার মতো। এখানে গেলে লাভও হবে, লোকসানও হতে পারে। এটা জেনেই তো সবাই বিনিয়োগ করেন। কোন কোম্পানি কিনলে লাভ হবে সেটা বিবেচনা বিনিয়োগকারীদেরই করতে হবে। তবে পুঁজিবাজার নিয়ে বেশি চিন্তার কোনও কারণ নেই।
টাইগারদের জার্সি পাকিস্তানের মতো হয়ে গেছে এটা ঠিক নয়
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপের জার্সি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজ আমাদের জাতীয় পতাকার রঙ। আন্তর্জাতিক ইভেন্ট হলে তখন একটা ড্রেস কোড আয়োজক সংগঠনই করে দেয়। জার্সির মধ্যে থাকা লাল রঙের অংশের মধ্যে বাংলাদেশ লেখা হয়েছিল। এতে আইসিসি আপত্তি জানিয়ে বলেছে, লালের মধ্যে দেশের নাম লেখা যাবে না। আইসিসির আপত্তি আমাদের মানতেই হবে। সেজন্য সেখানে সাদা দিয়ে লেখা হয়েছে। তাই জার্সি পাকিস্তানের মতো হয়ে গেছে, এটা ঠিক নয়। আইসিসির আপত্তির কারণে তা পরিবর্তন করে সাদা লেখা হয়েছে। এটা পাকিস্তানের জার্সির সঙ্গে মেলানোর কিছু নেই, সেটা ঠিক হবে না। এ সময় ফুটবল খেলায় ছেলেরা ভালো করতে না পারলেও মেয়েরা খুব ভালো খেলছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির এমপিদের সংসদে স্বাগত
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির সদস্যদের স্বাগত জানাচ্ছি, তারা সংসদে যোগ দিয়েছেন। বিরোধী দলকেও অভিনন্দন জানাই। সবার গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদ অধিক কার্যকর হবে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ইনশাল্লাহ অব্যাহত থাকবে।’

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। কোথাও অস্বাভাবিক কিছু দেখলে সবাই যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়। আমরা শান্তি চাই, সমৃদ্ধি চাই। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত হয়েছে, দারিদ্র্যমুক্তও হবে।’ সংসদ নেতা বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে কিছু মানুষকে ব্যবহার করা হয় মানুষ হত্যার জন্য। তাদের দিয়ে মানুষ হত্যা করানো হয়, বলা হয় তারা বেহেশতে যেতে পারবে। নিরীহ মানুষকে হত্যা করে বেহেশতে যাবে- এটা কীভাবে চিন্তা করে? মানুষ হত্যা তো মহাপাপ। যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করে তারা কীভাবে বেহেশতে যাবে? তিনি বলেন, ‘যারা এই শিক্ষাটা দিয়ে ধর্মান্ধতা করছে, যারা বোমা ও গুলি মেরে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে তারা বেহেশতের নাকি খুব কাছে পৌঁছে যাচ্ছে! যারা এই শিক্ষাটা দিচ্ছে তারা আগে কেন বেহেশতে চলে যায় না? আমরা চাই এই ধর্মান্ধতা থেকে মানুষ মুক্তি পাক। আর যারা শিক্ষা দিচ্ছে তাদের বলবো আগে আপনারা যান, বেহেশতে গেলেন কিনা সেটা আগে জানান, তারপর আমরা যাবো।’