দুর্নীতি নিয়ে ফখরুলের কথা বলা সাজে না: তথ্যমন্ত্রী

হাছান মাহমুদ

দুর্নীতি নিয়ে ফখরুল সাহেবদের কথা বলা সাজে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার (১ মে) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে  শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত মে দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন— শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব উম্মুল হাছনা, শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর তুমো পুতিয়াইনেন প্রমুখ।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বদলে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের উন্নয়ন তাদের চোখে পড়ে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা এখন সবকিছুর মধ্যে দুর্নীতি খোঁজেন। কিন্তু তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিলেন। ফখরুল সাহেবদের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলা সাজে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, সব ষড়যন্ত্র, সব প্রতিবন্ধকতা সব কূপমণ্ডূকতা মোকাবিলা করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরকারের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান। গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করতে গঠনমূলক সমালোচনা সাদরে গ্রহণ করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি উল্লেখ করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম নাকি বলেছেন— ‘দেশের মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি হচ্ছে।’ যারা ক্ষমতায় থাকতে পরপর চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন, আরেকবার আফ্রিকার একটি দেশের সঙ্গে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন, তাদের মুখে এসব কথা মানায় না। এ ব্যাপারে তো তাদের কথা বলারই অধিকার নাই।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ফখরুল ইসলামসহ বিএনপি নেতাদের বলবো, এই ধরনের কথাবার্তা বন্ধ করে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করুন। দেশকে পিছিয়ে নেবার ষড়যন্ত্র বন্ধ করে আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া বলেছিলেন— ‘পদ্মা সেতু হবে না। আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু করতে পারবে না।’ কিন্তু স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান।’’

হাছান মাহমুদ আরও  বলেন, ‘আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সবাই যখন প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন দিচ্ছে, তখন তাদের গাত্রদাহ হবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, ‘এই বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে কমপক্ষে ১০০ পরিবহন চালককে ও শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। বাসে-ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে, ঘুমন্ত শ্রমিকদের ওপর হামলা করেছে, মিল-কারখানায় আগুন দিয়েছে। তাদের মে দিবস নিয়ে, দুর্নীতি নিয়ে কথা বলার অধিকার নাই।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘শ্রম আইন সংশোধন করে ‘শ্রম বিধিমালা ২০১৫’ তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবায়ন করা হয়েছে উন্নত মজুরি কাঠামো। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন সর্বনিম্ন ১৬০০ টাকা থেকে আট হাজার টাকা করা হয়েছে। ‘জাতীয় শিশুশ্রম, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা ২০১৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘এখন কুঁড়েঘর শুধু কবিতায় আছে, বাস্তবে নেই। আকাশ থেকে কুড়িল ফ্লাইওভার দেখে মনে হয়— এটা বাংলাদেশ নয়, অন্যকোনও দেশ। এটাই উন্নয়নের বাংলাদেশ, বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।’

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তখন এই শিল্প নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এজন্য শ্রমিক ভাইদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে শিল্প সেক্টরে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা কেউ করতে না পারে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। বাংলাদেশ আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, খাদ্যে উদ্বৃত্ত করতে সক্ষম হয়েছে। আগে আমরা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে অন্য দেশের সাহায্য গ্রহণ করতাম। এখন আমরা অন্য দেশের দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সাহায্য করতে পারছি।’

পৃথিবীকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন,  ‘আগে একজন রিকশাওয়ালা সারাদিন রিকশা চালিয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা উপার্জন করতে পারতো। সেই টাকা দিয়ে তখন ৫ থেকে ৬ কেজি চাল কিনতে পারতো। কিন্তু এখন রিকশা চালিয়ে ৮০০ টাকা আয় করে। তা দিয়ে ১২ থেকে ১৫ কেজি চাল কিনতে পারে তারা।’

আগে একজন কৃষক সারাদিন কাজ করে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা উপার্জন করতো। এখন তারা ৫০০-৭০০ টাকা উপার্জন করে। এই টাকা দিয়ে তারা ১০-১২ কেজি চাল কিনতে পারে। আজকে ছেঁড়া কাপড় পরা কোনও মানুষই খুঁজে পাওয়া যায় না।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে আমাদের সরকার গঠন করার আগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ছিল ১৬০০ টাকা। এখন ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা করা হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা।’ বাংলাদেশ শিল্পোন্নত দেশের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে বলে সব সূচকে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। মানবউন্নয়ন সূচকে আমরা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছি। আমরা বহু সূচকে ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলছি। এ কারণে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রও হচ্ছে। দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কখনও সরাসরি আবার কখনও অন্য মাধ্যমেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’