অভিবাসন খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা ও বিদেশফেরত বাংলাদেশিদের পুনর্বাসনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। বৃহস্পতিবার (২ মে) বিকালে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থার (আইওএম) আয়োজনে প্রত্যাশা প্রকল্পের আওতায় মানসম্পন্ন অভিবাসন শীর্ষক অনুষ্ঠানে তারা এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, ‘মানুষের অধিকারকে কখনও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। যার কারণে বিদেশফেরত প্রবাসীদের ব্যাপারে আমরা আরও বেশি করে দায়িত্ব নিচ্ছি। যখন এই দায়িত্ব নিচ্ছি তখন আমাদের উচিত হবে তাদের জন্য সঠিক দায়িত্বটি পালন করা। আমার কাছে প্রত্যাশা প্রকল্পটি অন্য যেকোনও প্রকল্প থেকে ভিন্ন মনে হয়। পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিস্তর অংশীদারি। বিভিন্ন রাষ্ট্র, সুশীল সমাজ, অভিবাসীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের প্রয়োজন। আর এই অংশীদারিত্ব গন্তব্য এবং উৎস উভয়দেশের মধ্যে প্রয়োজন আছে। সুতরাং কেবল মানভিত্তিক অভিবাসন নয়, নীতি ও মানভিত্তিক অভিবাসন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের ধারণা হবে বলে আমি আশা করি। আমি আশা করি, সুশীল সমাজ এই বিষয়ে এগিয়ে আসবে।’
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান বলেন, ‘প্রবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে আমি নিজে এবং আমাদের প্রতিমন্ত্রী মহোদয় কয়েকবার বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন। তিনি যখনই বিদেশ যান কিংবা বিদেশ থেকে দেশে ফিরেন, তিনি এয়ারপোর্টের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন; যাতে অভিবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়। আমরা বিমানবন্দর এবং তার সঙ্গে স্টেকহোল্ডার যারা আছেন তাদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা তাদের জানিয়েছি, অভিবাসীদের প্রতি সুব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রত্যাশা প্রকল্পের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের সবার যা কিছু আছে তা নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। আমি আইওএম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আহ্বান জানাই, আসুন অভিবাসন খাতে সুশাসন নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করি।’
আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান গিওর্গি গিগওরি বলেন, ‘বিদেশফেরত প্রবাসীদের পুনর্বাসন ব্যাপকভাবে জরুরি। এই লক্ষ্যে সুপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
ব্র্যাকের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘প্রত্যাশা অর্থ আশা, নতুন করে শুরু, পথচলা। এই প্রকল্প আমাদের অনেক দিক দিয়ে চোখ খুলে দিয়েছে। কারণ বিদেশফেরত প্রবাসীরা সবসময় অবহেলিত ছিল। আমাদের একটি গবেষণায় জানা গেছে, প্রতি তিনজনে একজন অভিবাসনে ব্যর্থ হয়। তারা পরবর্তীতে কোনও সাপোর্ট পায় না। এই ক্ষেত্রে কাজ করার অনেক প্রয়োজন আছে।’
পরে মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন পরিচালনা নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ যে তিনটি সেক্টরের কারণে সচল থাকে তাহলো– কৃষি, প্রবাসী আয় এবং গার্মেন্টস। এই তিনটি হচ্ছে আমার দেশের ভিত্তি। আমাদের অভিবাসন খাত দিন দিন যেই পরিমাণ শক্ত হচ্ছে, এই একটি খাত পুরো বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন বাংলাদেশি যখন বিদেশ যায় তখন সবাই তার পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু যখন সে ফিরে আসে তখন কেউ তার পাশে দাঁড়ায় না। একজন প্রবাসী ফিরে আসার পর কী হবে, জরুরি সহায়তা কী হবে, সামাজিক-অর্থনৈতিক পুনর্বাসন কীভাবে হবে তার একটা মডেল থাকা উচিত। কারণ আইওএম আর ব্র্যাকের একার পক্ষে এটা করা সম্ভব না। আমরা সবাই মিলে যদি কাজ করি, যারা ফিরে আসে তাদের যে দক্ষতা সেটাকে যদি কাজে লাগাই, সেজন্য আমাদের একটি পুনর্বাসন মডেল থাকা জরুরি।’
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন– আইওএম বাংলাদেশের ডেপুটি মিশন চিফ শেরন ডিমাঙ্কে। এতে আরও ছিলেন– বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং রাষ্ট্রদূত রেন্সজে টেরিংকসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত।