সরকার অভিবাসন খরচ কমানোর চেষ্টা করছে: ইমরান আহমদ

গ্লোবাল কম্প্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন নিয়ে আঞ্চলিক পরামর্শ প্রদান অনুষ্ঠানপ্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, ‘অভিবাসন খরচের কারণে অভিবাসী শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা অভিবাসন খরচ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’ 

শনিবার (৪ মে) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দিনব্যাপী গ্লোবাল কম্প্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন (জিসিএম) নিয়ে আঞ্চলিক পরামর্শ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন পর্বে এসব কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

ইমরান আহমদ বলেন, ‘কেন অভিবাসন খরচ বেশি, কীভাবে বেশি হয়েছে, এর জন্য দায়ী কে, কীভাবে এটিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা যায় যাতে অভিবাসী শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এসব বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই মুহূর্তে এই বিষয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে আছে বীমা, আর্থিকভাবে লাভবান করা। এই যে ১৫ বিলিয়ন রেমিটেন্সের কথা আমরা বলছি, যদি সব অর্থ বৈধ ভাবে দেশে আসতো তাহলে ২০-২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স ছাড়িয়ে যেতো।’ 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার অভিবাসনকে উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। এই খাত থেকে বাংলাদেশে ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আসে। আমরা ইথিক্যাল রিক্রুটমেন্ট নিয়ে বিস্তর আলোচনা করতে পারি, নতুন নতুন বৈধ পথ বের করতে পারি, অভিবাসী শ্রমিকদের পরিবারসহ তাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে পারি। বাংলাদেশ সরকার ফেরত আসা অভিবাসী শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে আন্তরিক।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা জরুরি। প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে অভিবাসীরাও আমাদের মতো মানুষ। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলোকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। গ্লোবাল কম্প্যাক্ট বাস্তবায়নের জন্য আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন, আইডেন্টিটি পলিটিক্সসহ কয়েকটি বিষয়ে ভাবার দরকার আছে।’ 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে স্পেনের স্থায়ী প্রতিনিধি অগাস্টিন সান্তোস মারাভের। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমানসহ অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।