কলম্বোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ আশঙ্কা করছেন, এরকম আরও অনেক বাংলাদেশি হয়তো শ্রীলঙ্কাতে রয়েছে। কারণ, মানবপাচারকারীদের তৎপরতা ঢাকা ও কলম্বো উভয় জায়গাতেই রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি একটি সিস্টেম তৈরি করার জন্য। এর মাধ্যমে কোনও বাংলাদেশি ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ যেন আমাদের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ করে, যাতে করে আমরা সহযোগিতা করতে পারি।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে শ্রীলঙ্কাতে জরুরি অবস্থা চলছে। এই অবস্থায় যদি বিদেশি কোনও ব্যক্তি ধরা পড়ে তবে তার তথ্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে জানাতে বাধ্য নয় দেশটি।
গত শনিবার মুলেরিইয়াওয়া অঞ্চল থেকে ৩২, ২৮ ও ১২ বছর বয়সী তিনজন বাংলাদেশিকে অভিবাসন আইন ভঙ্গের কারণে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।
রিয়াজ বলেন, ’তারা পরিস্থিতির শিকার। তারা এখানে গত চার-পাঁচ মাস ধরে একটি স্থানীয় বেকারিতে কাজ করতো।’
শ্রীলঙ্কাতে বর্তমান টালমাটাল অবস্থার কারণে তারা বাড়ি যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে বেকারির মালিক তাদেরকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয় বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে চারজনকে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু হারুন নামক একজনের কাগজপত্র ঠিক থাকার কারণে তাকে পুলিশ ছেড়ে দেয় এবং পরে সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।’
দূতাবাস শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ওই তিনজনকে ছাড়ানোর জন্য বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
মানবপাচার
টাঙ্গাইলের তাঁতি হারুনকে দূতাবাসে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি অন-এ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে কলম্বোতে এসেছেন কিনা। বিষয়টি সম্পর্কে না জানায়, হারুনের উত্তর ছিল, ‘সেটা কি?’ বিমানবন্দরে তাদের কোন ব্যক্তি অভ্যর্থনা জানিয়েছিল জিজ্ঞাসা করলে হারুন জানান, ‘একজন বাংলাদেশি।’
রিয়াজ বলেন, ‘এর অর্থ হলো ঢাকা থেকে এরা ভিসা নিয়ে এখানে এসেছে এবং সেখানে একটি চক্র কাজ করছে। আবার কলম্বোতে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে একজন বাংলাদেশি অর্থাৎ তারা এখানেও কাজ করছে।’
রাষ্ট্রদূত জানান, হারুনের মতো অসহায় লোকদের ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শ্রীলঙ্কাতে আনা হচ্ছে এবং তারা এজন্য দুই লাখ টাকা খরচ করেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটা (মানবপাচার) বন্ধ করা দরকার এবং এটি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব মহলকে একসঙ্গে কাজ করার এখনই সময়, যাতে করে মানবপাচারকারীরা আর শ্রীলঙ্কায় লোক পাঠাতে না পারে।’
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার সাংগ্রিলা হোটেলে বোমা বিস্ফোরণকারী ইনশাফ ইবরাহিমের তামা কারখানায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে সেখানে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ১১ বাংলাদেশি শ্রমিককেও গত ২৬ এপ্রিল ফেরত পাঠানো হয়। অবশ্য দেশে ফেরত আনার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পায়নি বাংলাদেশ সরকার।