প্রতিদিন একসঙ্গে বহু মানুষ এখানে ইফতার করেন প্রতি বছরের মতো এবারও মুসল্লিদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। এ আয়োজনে রোজার প্রথম দিনেই মঙ্গলবার (৭ মে) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইফতার করেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। কোনও ভেদাভেদ ছাড়াই এখানে একসঙ্গে ইফতার করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নারীদের জন্যও রয়েছে পৃথক স্থানে ইফতার করার ব্যবস্থা। ইফতারের মেন্যুতে ছিল খেজুর, ছোলা, মুড়ি, জিলাপি, বেগুনি, পেঁয়াজু, কলা, শসা, শরবত।
প্রতিদিনই এ আয়োজন থাকবে বলে জানিয়েছে ইফা। তবে খাবারের মান বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন মুসল্লিরা।
দীর্ঘদিন ধরেই এখানে মুসল্লিদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে বড় পরিসরে ইফতারের এ আয়োজন শুরু হয়েছে ২০০৯ সাল থেকে। এ প্রসঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (মসজিদ ও মার্কেট বিভাগ) মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) প্রথম রোজা, তাই দুই হাজার মানুষের আয়োজন করা হয়েছে। তবে প্রতিদিনই লোক বাড়বে। রমজানের আগেই টেন্ডারের মাধ্যমে ইফতার সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মসজিদে পৌঁছে দেওয়ার পর আমাদের লোকজন সেগুলো বণ্টন করেন।’
অনেক রকম পদ থাকে ইফতারেআসরের নামাজের পর থেকেই বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শুরু হয় ইফতার নিয়ে প্রস্তুতি। মসজিদের খাদেম, ইফার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বড় থালায় সাজাতে থাকেন ইফতার। আসরের নামাজের পর থেকেই মুসল্লিরাও জড়ো হতে থাকেন। তবে ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে বাড়ে মানুষের ভিড়। আসরের নামাজের পর মসজিদের উত্তর-দক্ষিণ পাশের অস্থায়ী মঞ্চে চলতে থাকে ধর্মীয় আলোচনা, কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত পাঠ।
প্রথম দিনের আয়োজন প্রসঙ্গে মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘আজকে ১২০ কেজি ছোলা, ৬০ কেজি খেজুর, ৭০ কেজি মুড়ি, ১০০ কেজি জিলাপি, ৪০ কেজি পেঁয়াজু, ৭০ কেজি বেগুনি, ১ হাজার ৪০০ পিস কলা, ৫০ কেজি শসা এবং শরবতের জন্য ৪৫ কেজি চিনি ব্যবহার করা হয়েছে।’
ইফতারের আগে দোয়া মাহফিলইফতারের আগমুহূর্তে ধর্মীয় আলোচনা ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। ইফতার সামনে নিয়ে সবাই অপেক্ষা করেন মাগরিবের আজানের জন্য। কোথাও কোথাও একটি বড় থালায় ইফতার সামনে নিয়ে আজানের জন্য অপেক্ষা করতে দেখো গেছে ৫-৬ জন মুসল্লিকে। ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এ ইফতারের নিয়েও আগ্রহ মুসল্লিদের। অনেকেই একসঙ্গে হাজারও মানুষের সঙ্গে ইফতার করার উদ্দেশ্যে আসেন এখানে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পথচারী, কর্মজীবী, ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষ ইফতার করেন এখানে।
সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে আসেন ইফতার করতেবায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় অনেক যানজট, ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ায় এখানে চলে এসেছি। অনেক মানুষের সঙ্গে ইফতার করতে ভালোই লাগছে। তবে খাবারের মান ভালো হওয়া দরকার। ইফতারের দেওয়া শসাগুলো পচা ছিল, বেগুনিগুলো ঠিকমতো ভাজা হয়নি।’
বায়তুল মোকররম মসজিদের সামনে ফেরি করে বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করেন আজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই এখানে ইফতার করি। অনেক মানুষ একসঙ্গে ইফতার করেন, এটা আমার কাছে খুব ভালো লাগে।’
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন