পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচন ও ভোটাভুটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক এবং এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জড়িত। এখানে ভুল করলে বড় আকারের খেসারত দিতে হয়।’
নির্বাচনে সমর্থনের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনকারী দেশগুলোকে বাংলাদেশ কীভাবে কী বার্তা দিচ্ছে, সেটিও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব রাখে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচনকে পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে ধরা হয়। সেখানে কে কাকে ভোট দিচ্ছে তা প্রকাশ্যে বলা হয় না। ২০১৭-১৮ মেয়াদের অস্থায়ী সদস্য পদের নির্বাচনে নেদারল্যান্ডস ও ইতালি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে বাংলাদেশ প্রকাশ্যে নেদারল্যান্ডসকে সমর্থন দেয়। ওই ঘোষণার পরও অবশ্য ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কোনও অবনতি হয়নি। ইতালিতে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করে।
নির্বাচনে বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক নির্বাচনে বাংলাদেশের ফল অত্যন্ত ভালো। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ প্রায় ৫০টির মতো আন্তর্জাতিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে একমাত্র ওআইসি পরিচালক পদের নির্বাচনে হেরে যাওয়া বাদ দিলে সফলতার হার প্রায় ১০০ ভাগ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশ অত্যন্ত সাবধানী। অনেক পরিকল্পনা করে নির্বাচনি প্রচারণার ছক করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দূতাবাসকে এর সঙ্গে জড়িত করা হয়।’ বেশির ভাগ নির্বাচনের প্রচারণা নিউ ইয়র্ক এবং জেনেভাতে জাতিসংঘ দফতরভিত্তিক হলেও বাংলাদেশে যে বিদেশি দূতাবাসগুলো আছে, বিদেশে যে বাংলাদেশি মিশনগুলো আছে তারা স্ব স্ব দেশে প্রচারণা চালায় বলে তিনি জানান।
‘হর্স ট্রেডিং’
সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত বাজারে যেভাবে ঘোড়া কেনাবেচা (হর্স ট্রেডিং) হয়, অনেকটা সেভাবে নির্ধারিত হয়।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন কোনও দেশের কাছে কোনও একটি নির্বাচনের জন্য ভোট চায়, তখন ওই দেশটি তার অন্য কোনও নির্বাচনের জন্য সমর্থন চায়।’
ওই দেশ নিজের কোনও নির্বাচনের জন্য ভোট না চেয়ে তৃতীয় কোনও বন্ধুরাষ্ট্রের জন্যও ভোট চাইতে পারে বলে তিনি জানান। এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতির ওপর।’
২০১৬-১৭ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচন করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ২০১৪ সালে জাপানের সমর্থনে সেটি প্রত্যাহার করে নেয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘যে সময় বাংলাদেশ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয় তখন আমাদের কাছে গোপনে প্রায় ৬০টির মতো দেশ লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা আমাদের ভোট দেবে।’ শুধু তাই নয়, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র চীন বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছিল নির্বাচনের মাঠে থাকার জন্য এবং এজন্য তারা ভোট জোগাড় করে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিল বলে তিনি জানান।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জিততাম কিনা জানি না, তবে নির্বাচনে থাকলে জাপানকে অনেক বেগ পেতে হতো।’
উল্লেখ্য, জাপানকে ১৯৭৮ সালে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হয় ১৯৭৯-৮০ মেয়াদে।