কৃষির আধুনিকায়নই তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করবে চাষিদের: কৃষিমন্ত্রী





GAZ_0297কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, তামাক ও তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হচ্ছে। পরোক্ষভাবে এর চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ে।
রবিবার (১২ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফের অডিটোরিয়ামে তামাকবিরোধী জাতীয় প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেমিনার ও তামাক নিয়ন্ত্রণ পদক-২০১৯’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘শুধু যারা ঢাকায় বসবাস করেন, তারা সঠিকভাবে তাদের ট্যাক্স দিলে তামাক কোম্পানির এই ট্যাক্স পরিহার করা সহজ হবে এবং তামাক উৎপাদনও বন্ধ করা যাবে। তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষির আধুনিকায়ন, যান্ত্রিকিকরণ এবং রফতানি বাজার অপরিহার্য। সামগ্রিক অর্থে কৃষির আধুনিকায়নই তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করবে চাষিদের।’
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা: ২০৪০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ থেকে তামাক শতভাগ নির্মূল করা হবে। কৃষিকে সত্যিকার অর্থে বাণ্যিজ্যিক কৃষি, আধুনিক কৃষি করা গেলে ২০৪০ সালের আগেই তামাকমুক্ত সমাজ গড়া যাবে। এরই মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে সবার অংশগ্রহণ জরুরি।’
অনুষ্ঠানে এক উপস্থাপনায় দেখানো হয়, বিশ্বের তামাক উৎপাদনকারী ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। প্রথম অবস্থানে আছে চীন। বাংলাদেশে তামাক উৎপাদনকারী জেলার মধ্যে প্রথম হচ্ছে কুষ্টিয়া। তামাক চাষের নিবিরতা ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৪৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২১৩ শতাংশ হয়েছে। এতে আরও দেখানো হয়, সামগ্রিকভাবে তামাক চাষের চেয়ে সবজি চাষ লাভজনক। তামাক উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করা গেলে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভেঙে কৃষি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) - ২০১৭ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট তামাক ব্যবহারকারী মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৭৮ লাখ, যা মোট জনগোষ্ঠীর (১৫ বছর ও তার বেশি) ৩৫.৩ শতাংশ। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই হার অনেক বেশি। তামাক ব্যবহারের ফলে দেশের অর্থনীতিতে বছরে নিট ক্ষতির পরিমাণ ওই সময় অনুযায়ী ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রতিবছর সিগারেট কেনায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ ও বিড়ি কেনায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় হয়। বর্তমানে এই ক্ষতির পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেড়েছে। শুধু ধূমপানের কারণেই আয়ুষ্কাল কমে ১০ থেকে ২০ বছর। বিশ্বে যত লোক মারা যায়, তার দ্বিতীয় প্রধান কারণ ধূমপান।
অনুষ্ঠানে তামাকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি উদ্যোগ, গবেষণা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসহ বিশেষ পদক প্রদান করা হয় চারজনকে। সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন স্বনামধন্য চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।
পিকেএসএফের সভাপতি ড. খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল মালিক।