‘কৃষির ঝুঁকি রাষ্ট্রকে নিতে হবে’

01কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে কৃষিকাজের যাবতীয় ঝুঁকি রাষ্ট্রকে নিতে হবে বলে দাবি করেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ নানা কারণে ফলন হ্রাস ও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কৃষিতে জাতীয় বাজেট, ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাড়াতে হবে।’
সোমবার (২৭ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বেসরকারি এবং অলাভজনক উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক আয়োজিত ‘ধান ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য: সঙ্কট ও প্রস্তাবনা’- শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে বক্তারা ধানসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও কৃষির চলামান সঙ্কট নিরসনে সুনির্দিষ্ট কিছু কাজের কথা তুলে ধরে একটি কৃষকবান্ধব কৃষিনীতির দাবি তোলেন।
বাংলাদেশ কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার মাঠ পর্যায়ের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘সেখানকার কৃষকরা মাত্র ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করছে কিন্তু সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে পারছে না।’ ধানের ক্রয়সীমা বাড়িয়ে সব কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার প্রস্তাব রাখেন তিনি।
কৃষক সমিতির সহ-সভাপতি আজহারুল ইসলাম আরজু মানিকগঞ্জের মাঠপর্যায়ের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘কৃষকরা সরকারের কাছে সরাসরি ধান বিক্রি করতে নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফসলের গুদাম ও কোল্ড-স্টোরেজ গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি।
আসন্ন জাতীয় বাজেটে সারাদেশে কৃষিপণ্য মজুদের জন্য গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ বাবদ সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখার দাবি জানান পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান।
উক্ত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারসিক-এর সমন্বয়ক ও গবেষক পাভেল পার্থ। যেখানে চলমান সঙ্কট মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট ১৬টি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও পবা’র সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন- বারসিক-এর পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস, বাংলাদেশ কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি মহিউদ্দিন আহম্মেদসহ অনেকে।