ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকটের সমস্যা থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে মেশিন আমদানির পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর রাজস্ব খাতে ৯ হাজার কোটি টাকা রাখা হয় শুধু কৃষিখাতের যে কোনও প্রয়োজন মেটানোর জন্য। সেখান থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা লাগে সার ও অন্যান্য কারণে। এজন্য বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ধান কাটার মেশিন কেনার ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেগুলো কৃষকদের কাছে নামমাত্র মূল্যে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে আগামী বছরই এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাতে একাত্তর টিভির টক শো ‘একাত্তর জার্নাল’-এর ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেছেন কৃষিমন্ত্রী।
ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কারণ হিসেবে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন সেবা ও শিল্পখাতে উন্নয়ন হচ্ছে, তাই কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য ধান কাটার পেছনে খরচ অনেক বেশি।’
১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রফতানির ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের এবারের (২০১৯) বোরো ফলন ভালো হয়েছে। গত একবছর থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। ২০১৮ সালের বোরোও ভালো হয়েছিল। আমনও ভালো হয়েছে। প্রচুর চাল আছে। আমদানি করলে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার কোনও ঝুঁকি থাকবে না। আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারবো। দেশ ও জাতির মর্যাদাও বাড়বে।’ দেশে উৎপাদিত পর্যাপ্ত চাল মজুদ আছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সরকার কোনও চাল আমদানি করে নাই। ভারতে চালের দাম কম। ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার জন্য সেখান থেকে আমদানি করে। ২০১৭ সালে সরকার শুল্ক জিরোতে নামিয়ে এনেছিল। গত বছরই তা শূন্য থেকে ২৮ শতাংশে উন্নীত করে সরকার। এখন ৫৬ ভাগ শুল্ক করছি আমরা। আশা করছি এতো শুল্ক দিয়ে ব্যবসায়ীরা আর চাল আমদানি করবে না।’
উল্লেখ্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশের আলোচিত কিছু সংবাদ নিয়ে একাত্তর টিভির নিয়মিত আলোচনার আয়োজন ‘একাত্তর জার্নাল’। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেছেন মিথিলা ফারজানা। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক মানস ঘোষ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভীন।