আইওএম-এর উপমহাপরিচালক পদে নির্বাচন মুলতবি

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপমহাপরিচালক পদে নির্বাচন আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। ওই নির্বাচনে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শুক্রবার নির্বাচনে ১৭৩টি দেশের মধ্যে আইওএম-এর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্ধারণের জন্য ১৪৮টি দেশ ভোট দিয়েছে।noname

অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচন পঞ্চম রাউন্ড পর্যন্ত গড়ায়। শেষ রাউন্ডে শহীদুল ৭৫ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সুদানের প্রার্থী পান ৭৩ ভোট। আইওএম-এর নিয়ম অনুযায়ী কোনও প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে অন্য প্রার্থীরা ঝরে যান এবং সংখ্যাগরিষ্ট প্রার্থীকে হ্যাঁ-না ভোটের সুযোগ দেওয়া হয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন আদায়ের জন্য। এই পদ্ধতি নিয়ে আফ্রিকান ইউনিয়ন জটিলতা তৈরি করলে নির্বাচন মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

আইওএম জাতিসংঘের বৈশ্বিক অভিবাসন ব্যবস্থা দেখভালকারী সংস্থা। এই সংস্থা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছে। প্রতি বছর তারা দেশে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠায়।

গত ১৬ জুন এক টুইট বার্তায় শহীদুল হক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার উপমহাপরিচালক পদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে প্রার্থী করায় সম্মানিত বোধ করছি। আমি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালকের অধীনে কাজ করে সবার জন্য অভিবাসন সহযোগিতা নিশ্চিত করতে চাই।’

বাংলাদেশ ছাড়া আরও চারটি দেশ এই পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশগুলো হচ্ছে সুদান, ফিলিপাইন, আফগানিস্তান ও জর্ডান।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দুপুর ২টায় নির্বাচন শুরু হওয়ার প্রথম রাউন্ডে শহীদুল দ্বিতীয় হন। প্রথমদিকেই ফিলিপাইন ও জর্ডান তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে। চতুর্থ রাউন্ডেও শহীদুল দ্বিতীয় অবস্থানে থাকেন। প্রথমদিকে ফিলিপাইন ও জর্ডান সরে দাড়ানোর পরে চতুর্থ রাউন্ড শেষে আফগানিস্থান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে শহীদুল প্রথম অবস্থানে চলে আসেন।

অভিবাসন দুনিয়ার পরিচিত মুখ শহীদুল হক জাতিসংঘের ওই সংস্থায় এর আগে ১১ বছর বিভিন্ন উচ্চ পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ত্যাগ করেন এবং ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র সচিব নিযুক্ত হোন। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরকালীন ছুটিতে গেলেও এক বছরের জন্য এক্সটেনশন পান। তিনি গত বছর সিনিয়র সেক্রেটারি পদে উন্নীত হোন।