রিকশা শ্রমিকদের অবরোধে ভোগান্তিতে নগরবাসী

রিকশাচালকদের অবরোধে যান চলাচল বন্ধরাজধানীর কিছু এলাকায় রিকশা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে যান চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাধ্য হয়েই অনেকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন। সাধারণ মানুষ দ্রুত এ সমস্যার  সমাধান চেয়েছেন। এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র (ডিএসসিসি) মেয়র সাইদ খোকন আন্দোলনরত রিকশা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য নগর ভবনে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে মহানগরীর বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা, মুগদা, বিশ্বরোড, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, প্রগতি সরণিতে অবস্থান নেন রিকশা শ্রমিকরা। তারা রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। রিকশাচালকরা বাঁশ, দড়ি, কাঠ, ইট দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কুদ্দুস ফকির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা যাতে কোনও গাড়ি ভাঙচুর না করে সে বিষয়ে তাদের বোঝানো হয়েছে। শ্রমিকরা আমাদের কথা রেখেছেন। তবে তারা রাস্তা ছাড়তে রাজি হননি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তাদের বিষয়ে সিটি করপোরেশন সিদ্ধান্ত নেবে।’

রিকশাচালকদের অবরোধে যান চলাচল বন্ধদাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রিকশা শ্রমিকরা। সিটি করপোরেশন তাদের ঘোষণা তুলে নিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করবে বলে জানিয়েছেন রিকশাচালক হেমায়েত।

মালিবাগে আন্দোলনরত রিকশাচালক হেমায়েত বলেন, ‘আমরা কাজ করে খেতে চাই।’

রিকশাচালক রাজন মিয়া বলেন, ‘রিকশা চালিয়ে বউ-পোলাপান নিয়ে আমাদের চলতে হয়। রিকশা না চালালে কী খাবো? সড়কে আমাদের রিকশা চালাতে দিতে হবে।’

সিদ্দিকুর রহমান নামে আরেক রিকশাচালক বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি না মানা হবে, আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

এ বিষয়ে রামপুরা থানার ডিউটি অফিসার এসআই তৌফিকা ইয়াসমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকাল ৭টা থেকে রামপুরা মালিবাগ সড়ক বন্ধ করে দিয়েছেন রিকশাচালকরা। প্রায় দুই হাজার শ্রমিক সড়কে আছেন। পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর কাজ করছেন। তবে রামপুরা সড়কে কোনও যান চলাচল করছে না।’

রিকশাচালকদের অবরোধের কারণে সকালে অফিসগামী মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন, তেমনি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রগতি সরণি, রামপুরা, খিলগাঁও এলাকা দিয়ে চলাচলকারীরা।

রিকশাচালকদের অবরোধের কারণে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন লোকজনউত্তর বাড্ডা থেকে মতিঝিলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে অফিস করেন সুজা রহমান। তিনি বলেন, ‘উত্তর বাড্ডা থেকে হেঁটে রামপুরা পর্যন্ত এসেছি। কোনও গাড়ি চলছে না। হেঁটেই যেতে হবে মতিঝিল পর্যন্ত।’

অবরোধের কারণে শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। মঙ্গলবার অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারেননি। যাদের বাসা দূরের তাদের অনেককেই বাসায় ফিরে যেতে দেখা গেছে। অনেকে আবার হেঁটেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেছেন।

শাহজালাল নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বাসা ভাটারায়। আমি তিতুমীর সরকারি কলেজে পড়ি। বাসা থেকে বের হয়েই দেখি সব গাড়ি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। আজকে আর কলেজে যেতে পারিনি। তাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে অবরোধ দেখছি।’

ঢাকা ওয়াসায় কর্মরত হাতেম আলী নামে একজন বলেন, ‘এমনিতেই গাড়ি চলে না, তার মধ্যে অবরোধ। মানুষ কোথায় যাবে। দ্রুত রিকশাচালকদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

রিকশাচালকদের অবরোধের কারণে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন লোকজন

মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো রিকশা শ্রমিকদের আন্দোলন চলার মধ্যেই ডিএসসিসি’র মেয়র সাঈদ খোকন রিকশাচালকদের তার দফতরে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

জাতীয় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা চাই ঢাকা থেকে অবৈধ রিকশা তুলে দেওয়া হোক। পাশাপাশি যেসব সড়কে রিকশা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবো। সেটা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারি, সেজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’

প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। এর মধ্যে প্রগতি সরণি ও মিরপুর রোডে রিকশা নিষিদ্ধ করা হয়। ডিএসসিসি’র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করে। সে ঘোষণা অনুযায়ী মিরপুর রোডের গাবতলী থেকে আজিমপুর, সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ এবং কুড়িল বিশ্বরোড থেকে খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত সড়কে রিকশা চলাচল করবে না। ৭ জুলাই থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

আরও পড়ুন:

রিকশাচালকদের অবরোধে বাড্ডা-রামপুরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ

 

ছবি: নাসিরুল ইসলাম