পররাষ্ট্র নীতিতে গতিশীলতা আনতে মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন

সম্প্রতি প্রকাশিত গেজেটপররাষ্ট্র নীতিতে গতিশীলতা আনতে এ বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পুনর্গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘ ২২ বছর পরে নতুন কমিটি গঠনের পর গত ২২ জুলাই এ সম্পর্কিত একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

গেজেট অনুযায়ী নতুন ১৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি পুরাতন সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটিকে প্রতিস্থাপন করবে এবং বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনা করে এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

এ কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন কৃষি, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, পররাষ্ট্র, পরিকল্পনা, শিল্প, খাদ্য, বাণিজ্য, পরিবেশ ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীও এর সদস্য।

এছাড়া কেবিনেট সচিব, মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র, জননিরাপত্তা, সুরক্ষা সেবা, অর্থ, প্রবাসী কল্যাণ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা ওই কমিটির সহায়তা প্রদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বৈদেশিক নীতি ও সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করা এ কমিটির অন্যতম প্রধান কাজ। এছাড়া রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়গুলো বিবেচনা করাও এই কমিটির কাজ।

আগের গেজেটনিরাপত্তা ও সমুদ্র অর্থনীতিকে বেগবান করা এবং বিদেশে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করবে এই কমিটি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ’আগের কমিটির থেকে এই কমিটি বেশি কার্যকর হবে বলে আশা করি।’

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ’বর্তমান যুগে জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করার জন্য পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা নীতি একসঙ্গে কাজ করে কিন্তু এই কমিটিতে প্রতিরক্ষা সচিব বা আমর্ড ফোর্সেস ডিভিশনের কোনও প্রতিনিধি নাই।’

রোহিঙ্গা সমস্যা কারণে নিরাপত্তা বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি জরুরি এবং এজন্য পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সুসমন্বয় থাকতে হবে বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নতি করছে এবং এরজন্য দেশটির প্রচুর জ্বালানি প্রয়োজন কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রী বা সচিবকে এই কমিটিতে রাখা হয়নি। ’জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রী ও সচিব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তাদের এই কমিটিতে থাকা দরকার বলে মনে হয়।’

তিনি বলেন, ’যেই এই কমিটি করে থাকুক পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে জ্ঞানের কিছুটা ঘাটতি আছে বলে মনে হয়।’