‘নির্মল বায়ু আইনের খসড়া দ্রুত সবার সামনে আসবে’





বাংলাদেশের বায়ু মানের পরিস্থিতি বিষয়ে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানবায়ুদূষণ রোধে ‘নির্মল বায়ু আইন’ তৈরি করা হচ্ছে। আইনটির খসড়া খুব দ্রুতই সবার সামনে আসবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেস) প্রকল্পের পরিচালক ড. মঞ্জুরুল হান্নান খান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইএমকে সেন্টার, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) সেন্টার ফর সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (সিএসডি) উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের বায়ু মানের পরিস্থিতি বিষয়ে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলে তিনি।
ড. মঞ্জুরুল হান্নান খান বলেন, একটি ভালো আইনের খসড়া তৈরি করার জন্য আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছি। এই খসড়াটি খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হবে। এরপর খসড়াটির ওপর সবার মতামত চাওয়া হবে। তাই এই নির্মল বায়ু আইনের খসড়া সবাই দেখার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, বায়ু দূষণ এই দেশের জন্য খুব জটিল একটি সমস্যা। কারণ, পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারলেও বায়ু ছাড়া মানুষ ৫ মিনিটও বাঁচতে পারবে না। এখানে নীতিগত ইস্যু ছাড়াও সাধারণ মানুষের আচরণগত সমস্যাও আছে। যেমন- কাউকে যদি বলেন, আগুনবিহীন তৈরি ইট ব্যবহার করতে, আমি জানি না তিনি করবেন নাকি! বেশিরভাগ সময়ে আমরা আগুন দিয়ে তৈরি ইটই ব্যবহার করতে চাই, কারণ আমরা মনে করি এটা আগুনবিহীন ইট থেকে বেশি মজবুত। বর্তমানে আগুনবিহীন তৈরি ইটকে প্রমোট করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা শুধু মাত্র ইটভাটাকে টার্গেট করছি না। আমরা অন্যান্য সেক্টরে যেমন, যানবাহন, নির্মাণকাজের মতো ক্ষেত্রেও বায়ু দূষণ নিয়ে কাজ করছি। ২০১২ সালে একটি সংস্থা গবেষণা করে জানিয়েছিল যে ৫৮ শতাংশ বায়ু দূষণের জন্য ইটভাটা দায়ী। বর্তমানে হয়তো সেই পরিস্থিতি পাল্টিয়েছে। কিছু সময় ধরে আমরা ঢাকায় কিছু মেগা প্রজেক্ট শুরু করেছি। এছাড়া ঢাকার রাস্তায় প্রচুর যানবাহন বেড়েছে। প্রতিদিন সড়কে গাড়ি যুক্ত হচ্ছে, কিন্তু সড়ক থেকে উঠছে না। একটি গাড়ি রাস্তায় নামলে, ১০০ বছর পর্যন্ত থাকে। প্রাকৃতিক ভাবে বায়ু দূষণ রোধে প্রচুর গাছ লাগানো যেতে পারে। কিন্তু আমাদের আচরণের দিকে লক্ষ্য করতে হবে। আমি আমার বাড়ি তৈরি করার সময় কখনই বায়ু দূষণ রোধ করতে কোনও ব্যবস্থা নেই না। রাস্তার ওপর নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখি। যদি কোটি কোটি মানুষের মনমানসিকতা এ ধরনের হয় তাহলে সরকার কিভাবে কাজ করবে? বায়ু দূষণ রোধে সরকার সবধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেই নির্মল বায়ুর কথা উল্লেখ করা ছিল।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ইউল্যাব সিএসডি’র এনা উইলিয়ামস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুস সালাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক করবী ফারহানা, বেঙ্গল ইন্সটিটিউটের সাবিহা হক, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সায়েন্স এনভয় ফর এয়ার কোয়ালিটি জেমি শাকের, এনভায়রনমেন্ট অফিসার ইভারসন লং প্রমুখ।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়ু মান বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান বিষয়ক দূত অধ্যাপক জেমস জে শাওয়ার এবং গোলটেবিল আলোচনা সঞ্চালনা করেন বেলা’র নির্বাহী পরিচালক রিজওয়ানা হাসান।