কমিটি কিছু পর্যবেক্ষণসহ সদ্য শেষ হওয়া (জুন ২০১৯) এই প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে (আইএমইডি) দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (২৯ জুলাই) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, ২৮৪ কোটি ৭৮ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ২২১ কোটি ৪৭ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে ৩৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে পরামর্শক নিয়োগে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নয় এমন খাতেও অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিতে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া দেখা গেছে, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের নামে গত ১০ বছরে ২৯৯ জন বিদেশ সফর করেছেন। এরমধ্যে কোনও কোনও ব্যক্তি ১০/১২ বারও বিদেশ গিয়েছেন। এছাড়া প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন অনেকেও প্রকল্পের টাকায় বিদেশ সফর করেছেন। প্রকল্পের টাকায় বিদেশ গিয়ে দেশে ফিরে চাকরি থেকে অবসরে গেছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। ফলে তাদের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের পরিচালক এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে নিজে ৩ থেকে ৪টি গাড়ি ব্যবহার করেছেন বলেও সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তথ্য উঠে এসেছে।
কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা কেস প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। প্রকল্পের অনেক কর্মকাণ্ড ও ব্যয় আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। এজন্য আমরা আইএমআইডিকে প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমরা সুপারিশ করেছি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে কর্মকর্তাদের এভাবে বিদেশে না পাঠিয়ে কিছু কর্মকর্তা বাছাই করে তাদের বিদেশ পাঠিয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলে তাদের মাধ্যমে দেশে বসেই প্রশিক্ষণ প্রদানের।
বৈঠক থেকে সুন্দরবন এলাকায় যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এককভাবে পরিবেশের ওপর প্রভাব পরিমাপ না করে সামগ্রিকভাবে কী প্রভাব পড়তে পারে সে বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কমিটি দেশে কীটনাশক আমদানির ক্ষেত্রে পরিবেশের ওপর প্রভাব খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি এডিস মশা মারার ওষুধ আমদানির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ডেঙ্গু মশা মারার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ আমদানি হচ্ছে। যেহেতু বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই এটি নিয়ে হয়তো আমাদের কিছু বলার নেই। তবে, ভবিষ্যতে যেসব কীটনাশক আমদানি হবে, তা প্রতিবেশবান্ধব কিনা সেটা দেখতে হবে।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফআইডিসি) দখলকৃত ও বেদখলকৃত জমির পরিসংখ্যান আগামী তিন মাসের মধ্যে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে চকোরিয়া সুন্দরবনের পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে বন অধিদফতরের সহায়তায় স্থানীয় নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে একটা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রণয়ন করে কমিটিতে উপস্থাপন এবং কমিটির সদস্যদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিদেশ ভ্রমণের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া কমিটি সাস্টেইনেবল ফরেস্ট অ্যান্ড লিভলিহুডস (সুফাল) প্রকল্প স্বচ্ছতার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ লোকবলসহ স্থায়ী প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করে।
সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, জাফর আলম এবং মো. রেজাউল করিম বাবলু অংশগ্রহণ করেন।