২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজিব নিহত হওয়ার পরপরই ‘নিরাপদ সড়ক’ দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল শিক্ষার্থীরা। ওই সময় শিক্ষার্থীদের টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়ে ঢাকা। আন্দোলনের মুখে সরকার ওই সময় জাবালে নূরের দু’টি বাসের রুট পারমিট বাতিল করে। এরপর পরিবহনটির নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়।
জানতে চাইলে বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মাহবুব-ই-রাব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাবালে নূরের মালিকপক্ষ তাদের কোম্পানির নাম পরিবর্তনের জন্য আরটিসি’র কাছে আবেদন করেছে। সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘আরটিসি’র (আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি) অধীনে একটি সাব-কমিটি রয়েছে। ওই কমিটি জাবালে নূরের রুট পারমিট বাতিলের সুপারিশ করেছে। এখনও বাতিল করা হয়নি। আগামী ৪ আগস্ট কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যে কারণে পরিবহনটি এখনও চলাচল করছে। আর গত বছরের দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দু’টি বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে।’
এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, পরিবহনটির রুট পারমিট বাতিলের জন্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি থাকায় কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবারও নিজস্ব রুটে চলাচল করছে জাবালে নূর। কিছু কিছু বাস নাম পরিবর্তন করে অন্যান্য কোম্পানিতে ঢুকে পড়ছে। আবার কিছু কিছু বাস নিজস্ব নামেই চলাচল করছে। যদিও কোম্পানিটির দাবি, তাদের কোনও পরিবহন এখন রাস্তায় চলাচল করছে না। তাহলে সেই বাসগুলো কোথায় রয়েছে, সে বিষয়েও কোম্পানির কাছ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুটি কোম্পানি। একটি জাবালে নূর-১; অন্যটি জাবালে নূর-২। প্রথমটি বসিলা থেকে মিরপুর হয়ে আবদুল্লাহপুর ও দ্বিতীয়টি বসিলা থেকে মিরপুর হয়ে বাড্ডার দিকে চলাচল করে। জাবালে নূর-১-এ ৫০টি এবং জাবালে নূর-২-এ ৪০টি বাস চলাচলের অনুমোদন ছিল। এই কোম্পানিতে ৬০-৭০ জন মালিকের বাস রয়েছে। তারা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।’
আরও পড়ুন: জাবালে নূর চলছেই