ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র বর্তমান কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৩ আগস্ট। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি ডিএমপির কমিশনার হিসেবে যোগদান করেছিলেন। সাড়ে চার বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা আছাদুজ্জামানের পর কে হচ্ছেন ডিএমপির নতুন কমিশনার, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। পুলিশে আইজিপির পরই গুরুত্বপূর্ণ পদ হিসেবে ডিএমপির কমিশনারকে মনে করা হয়। একারণে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেতে এরইমধ্যে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘শৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পুলিশে যেভাবে বদলি বা পদায়ন হয়, এক্ষেত্রেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে। ডিএমপি কমিশনারের পদায়নের বিষয়টি পুলিশ সদর দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য আমার জানা নেই।’
ডিএমপি সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১, ১২ ও ১৩ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকবে। এর আগে ৯ ও ১০ তারিখ সাপ্তাহিক ছুটি। এ কারণে আছাদুজ্জামান মিয়ার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) নতুন কমিশনারের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। অথবা ঈদের ছুটি শেষে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন হতে পারে। ততদিন ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে ডিএমপিতে কর্মরত সিনিয়র পুলিশ অফিসার হিসেবে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
প্রজ্ঞাপন জারি হতে দেরিও হতে পারে জানিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরবেন ৮ আগস্ট। এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সরকারি সফরে ভারতে রয়েছেন। তিনি ফিরে আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন কমিশনার কে হতে পারেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ কমিশনার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন—পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম, পুলিশের বিশেষ শাখা-এসবির অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলাম, পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান। এছাড়া, অতিরিক্ত আইজিপি (পুলিশ টেলিকম অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট) ইকবাল বাহারের নামও রয়েছে আলোচনায়।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। ১০টি থানা নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে এখন থানা রয়েছে ৫০টি। শুরুতে ৬ হাজার ফোর্স থাকলেও বর্তমানে ডিএমপিতে ৫০ হাজার ফোর্স কর্মরত রয়েছে। এই ইউনিটের প্রধান বা ডিএমপির কমিশনার কে হবেন, সে বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও নির্দেশনা আসে। এছাড়া, বর্তমান আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর পরামর্শ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও মনে করছেন অনেকেই। তবে সুনির্দিষ্ট করে কেউ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, যদিও নিয়ম অনুযায়ী ডিএমপি কমিশনার হিসেবে কাকে পদায়ন করা হবে, তা রাষ্ট্রপতির বিষয়। কিন্তু পদোন্নতি, বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দফতর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং তা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘আনঅফিসিয়াল’ অনুমোদন নিতে হয়।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার আগে দীর্ঘ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বেনজীর আহমেদ। বর্তমানে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বেনজীর আহমেদ ২০১০ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু হওয়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রথম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ই এ চৌধুরী। ১৯৭৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ডিএমপির কমিশনার ছিলেন—এএমএম আমিনুর রহমান, আব্দুর রকীব খন্দকার, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, এম আজিজুল হক, এএইচএমবি জামান, এএমএম নসরুল্লাহ খান, মোহাম্মদ সালাম, এম এনামুল হক, গোলাম মোরশেদ, এএসএম শাহজাহান, আশরাফুল হুদা, মির্জা রকিবুল হুদা, এএন হুসেইন, একে আল মামুন, এএফএম মাহমুদ আল-ফরিদ, একেএম শামসুদ্দিন, মতিউর রহমান, কুতুবুর রহমান, আনোয়ারুল ইকবাল, আব্দুল কাইয়ুম, এসএম মিজানুর রহমান, নাইম আহমেদ, এবিএম বজলুর রহমান ও একেএম শহীদুল হক।