কোথাও যানজট, কোথাও ফাঁকা

যানজটে আটকে পড়া যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতেপরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বাড়ি যাচ্ছেন রাজধানীবাসী। ঈদের আগে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ছিল শেষ কর্মদিবস। এদিন কাজ শেষেই বাস, ট্রেন ও লঞ্চঘাটে ভিড় জমাতে শুরু করেন ঘরমুখো মানুষ। রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত এ ভিড় বাড়তে থাকে। একইসঙ্গে মহাসড়কেও পড়ে যানবাহনের বাড়তি চাপ। এ কারণে উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-মাওয়া সড়কেও রয়েছে চলমান যানজট ও গাড়ির ধীরগতি। তবে ফেরি বাড়ানোর কারণে যানবাহন পারাপারে তেমন জটিলতা নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কেও তেমন যানজট নেই বলে জানিয়েছেন আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাশে দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার এবং সেতুর পশ্চিমপাশে প্রায় ১৮ কিলোমিটারের মতো দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই থেমে থেমে যানবাহন চলছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। মির্জাপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাশ এবং পশ্চিমপাশে মুলিবাড়ি রেলক্রসিং থেকে হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত এ যানজট ছড়িয়ে পড়েছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটসকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ কারণে যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহনকে দীর্ঘসময় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। চালকরা গাড়ি নিয়ে মাঝে মধ্যে একটু একটু করে আগাতে পারছেন। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে মুলিবাড়ি রেলক্রসিং থেকে হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। সেতুর পশ্চিমপাশে মুলিবাড়িতে সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে ৯টা পর্যন্ত যানবাহন আটকে থাকে। সবচেয়ে ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হয় কড্ডার মোড় থেকে নলকা সেতু পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার অংশে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই মহাসড়কে যানবাহন আটকা থাকায় দুর্ভোগে পড়েন উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীরা। সাড়ে ১১টার পর কিছুটা স্বাভাবিক হলেও মুলিবাড়ি থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে যানবাহন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানজটমানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও যানবাহনের ধীর গতি রয়েছে। শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই ধীরগতির সৃষ্টি হয়। এ কারণে মানিকগঞ্জের টেপড়া থেকে বানিয়াজুড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটারের মতো চলমান জ্যামের সৃষ্টি হয়েছে। মানিকগঞ্জ থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার আসতে লাগছে ২ ঘণ্টারও বেশি সময়। তবে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকার অবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক। এখানে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক রাখতে ব্যক্তিগত প্রাইভেটসহ ছোট গাড়িগুলো ঘাটের প্রায় সাত কিলোমিটার আগে টেপড়া থেকে রূপসা হয়ে বিকল্প সড়কে ঘাট এলাকায় আসছে। এ কারণে ঘাটের অভ্যন্তরে যানবাহনের তেমন কোনও বিশৃঙ্খলা নেই। এছাড়া বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ফেরি সংখ্যা বৃদ্ধি করায় যানবাহন পারাপারে গতি এসেছে। বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করে ২০টা করা হয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কগাজীপুর প্রতিনিধি জানান, যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজট নেই গাজীপুর দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। কোনও কোনও পয়েন্টে গাড়ি ধীরে চললেও এখন পর্যন্ত বড় কোনও জটের সৃষ্টি হয়নি। অন্যান্য বছর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার যানজটের বিড়ম্বনা ঈদ আনন্দকেই মাটি করে দিতো। তবে কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় উড়ালসড়ক নির্মিত হওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখন অনেকটাই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। মহাসড়কে আগের মতো যানজট নেই। কোনাবাড়ী উড়াল সড়ক চালু হওয়ায় এবং জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন সড়ক খুলে দেওয়ায় উত্তরাঞ্চলের চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগও কমেছে।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, যানবাহনের হঠাৎ চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা-কুমিল্লা সড়কে যানবাহনের ধীরগতি রয়েছে। দাউদকান্দির মেঘনা ও গোমতী নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসতে সময় লাগতো দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। তবে ঈদযাত্রাকে ঘিরে মহাসড়কের মোড়ে মোড়ে এবং সেতুতে যানবাহনের চাপ বাড়ায় গাড়ির গতি কমেছে। এ কারণে কুমিল্লায় আসতে চার থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে।

আরিচা ফেরিঘাটে যানবাহন পাড়াপাড় স্বাভাবিকমুন্সীগঞ্জ জেলার পূর্বাংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও জেলার পশ্চিমাংশে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যানজট নেই। শুক্রবার (৯ আগস্ট) মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জ অংশে এ চিত্র দেখা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কবির হোসেন খান জানান, ‘মহাসড়ক দিয়ে অনেক যানবাহন পার হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কিন্তু মহাসড়কে যানজট নেই। বলা যায় মহাসড়ক একদম ফাঁকা।’

অন্যদিকে, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর অংশও ফাঁকা দেখা গেছে। হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মোর্শেদ তালুকদার জানান, ‘মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আছে। তবে কোনও যানজট নেই। বরং মহাসড়ক কোথাও কোথাও ফাঁকা।’

এদিকে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে নদীতে স্রোত ও ওয়ানওয়ে চ্যানেলের কারণে ফেরি পারাপারে সময় লাগছে এবং প্রত্যেক ফেরিকে চ্যানেলের মুখে ১০ মিনিটের মতো সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এই রুটে এখন চারটি রো রো ফেরিসহ ১৭টি ফেরি চলছে।