হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংস্কারের সব তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে সংসদীয় কমিটি। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের কাছে কমিটি ওই হোটেলের সংস্কারের ব্যয়সহ বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। বুধবার (২৮ আগস্ট) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একজন সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই তথ্য চেয়েছি। এটা বিশেষ কোনও উদ্দেশ্যে চাওয়া হয়নি।’

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, কমিটির সদস্য এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সংস্কারের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘সংস্কার কাজে যে টাকা ব্যয় হয়েছে, সেটা কখনোই সম্ভব নয়। সংস্কারের টাকা দিয়ে একই মানের আরও দুটি নতুন হোটেল তৈরি করা সম্ভব।’ পরে কমিটির বৈঠকে ওই হোটেল সংস্কারের যাবতীয় নথি দেওয়ার সুপারিশ করে।

এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে,  বৈঠকে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালের পুনঃসংস্কার কাজের সঙ্গে কোন প্রতিষ্ঠান জড়িত, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, টেন্ডার কোন প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট কমিটিতে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।

প্রসঙ্গত,  হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংস্কারে মোট ৬২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সংস্কার কাজ ২০১৬ সালের শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে গত বছর আগস্টে শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর এর উদ্বোধন করেন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করে হোটেলটি।

কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কাজী ফিরোজ রশীদ, তানভীর ইমাম, আশেক উল্লাহ রফিক ও সৈয়দা রুবিনা আক্তার অংশ নেন।

প্রায় সাড়ে ৪ একর জমির ওপর অবস্থিত হোটেলটি ১৯৬৬ সালে চালু হয়। ওই সময় থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। ১৯৮৪ সাল থেকে যুক্ত হয় শেরাটন কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালে শেরাটন চলে যাওয়ার পর সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে রূপসী বাংলা নামে এটি পরিচালিত হয়। চলে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত। এরই মধ্যে  হোটেলটির মূল মালিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের সঙ্গে ২০১২ সালে চুক্তিবদ্ধ হয় ইন্টারকন্টিনেন্টাল গ্রুপ। তাদের চাহিদা মোতাবেক হোটেলটিকে নতুন করে সংস্কার করা হয়। সংস্কারের পর হোটেলটির প্রতিটি অতিথি কক্ষের আয়তন আগের চেয়ে বেড়েছে। এতে করে আগের তুলনায় কক্ষ সংখ্যা কমেছে। এখন কক্ষসংখ্যা ২২৬টি। 

এদিকে, বৈঠকে ঢাকা ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ঢাকা শহরের সব পর্যটন কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশে পর্যটনকে আরও শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় করতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এলাকায় এক্সক্লুসিভ ইকোট্যুরিজম জোন করার জন্য পর্যটন করপোরেশনকে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের পরিফেরিতে পর্যটন জোন স্থাপনের জন্য বুয়েট পর্যটন সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।