সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে দিনে ১১০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। প্রতিনিয়ত বাড়ছে যাত্রীর সংখ্যা। বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাসহ বেশ কিছু ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সব যাত্রীকে জুতা, প্যান্টের বেল্ট খুলে আর্চওয়ে পার হতে হয়। এ তল্লাশিতে আপত্তি তোলেন ভিআইপিরা। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে বিচারপতি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আমলাসহ ভিআইপিদের সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে তল্লাশি নিয়ে বিপত্তিতে পড়তে হতো বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের। কখনও কখনও ভিআইপিদের সঙ্গে থাকা প্রটোকল কর্মীদের হেনস্তার শিকারও হতে হয়েছে তাদের। কোনও কোনও ভিআইপি তল্লাশি ছাড়াই প্রবেশের চেষ্টা করলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আন্তর্জাতিক টার্মিনালে পৃথক সুবিধা আগে থেকেই
বিমান সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে উত্তর দিকে ভিআইপিদের জন্য রয়েছে পৃথক গেট ও লাউঞ্জ সুবিধা। চেক ইন শেষে লাউঞ্জে বসার সুবিধা পান ভিআইপিরা। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে ইমিগ্রেশন সুবিধাও। সেখানে ইমিগ্রেশন শেষে বিমানে ওঠেন তারা। তবে শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে ভিআইপিদের জন্য আলাদা কোনও ব্যবস্থা ছিল না। বিমানবন্দরে প্রবেশ করে চেক ইন শেষে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে একই লাইনে দাঁড়িয়ে তল্লাশি শেষে ভেতরে যেতে হতো ভিআইপিদের।
আবেদন নাকচ করেন প্রধানমন্ত্রী
সূত্র জানায়, গত ৭ এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে বিচারপতি, সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রীদের তল্লাশি শিথিল করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ভিআইপিদের আলাদা লাইন করার জন্য সুপারিশ করা হয়। এছাড়া, অনেকেই বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর কাছেও এ সুবিধা পেতে আবেদন জানান। এসব আবেদন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে নাকচ করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে সর্বশেষ সংসদীয় কমিটির সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি ছাড়া কাউকে যেতে দেওয়ার সুযোগ নেই। শুধু সরকারের ন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগ্রামের (এনসিএএসপি) তালিকাভুক্ত ব্যক্তি তল্লাশি বাদেই ছাড়া পাবেন। বৈঠকে বেবিচকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শাহজালালে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক টার্মিনালে ভিআইপিদের নিরাপত্তা তল্লাশি করতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।
সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়াতে হবে না ভিআইপিদের
বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে সম্প্রতি শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে ভিআইপিদের সুবিধা দিতে পৃথক তল্লাশি গেট চালু করেছে বেবিচক। ফলে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়াতে হবে না গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের। তবে পৃথক গেট করা হলেও এখানে আর্চওয়ে, ল্যাগেজ স্ক্যানার পার হয়েই যেতে হবে তাদের। একই সঙ্গে এ গেটে বিমানবন্দরের কর্মী ও এয়ারলাইনসের পাইলট এবং কেবিন ক্রুরা প্রবেশের সুবিধা পাবেন। টার্মিনালের জায়গা বাড়াতে গিয়ে কমানো হয়েছে দোকানের সংখ্যা, নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ভবন।
এ প্রসঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, ‘আগে আমাদের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে অনেক চাপ ছিল। এখানে যাত্রীদের সিকিউরিটি স্ক্রিনিংয়ের জন্য একটিই গেট ছিল। একই পথ দিয়ে সাধারণ যাত্রী, ভিআইপি, ক্রুসহ সবাইকে যেতে হয়। এতে লাইন লম্বা হয়ে যেতো, যাত্রীদের ওপর বেশি চাপ পড়তো। এ কারণে আমরা আরেকটি গেট চালু করেছি। যে গেট দিয়ে ভিআইপি, এয়ারলাইন্সের ক্রু, বিমানবন্দরের স্টাফরা যেতে পারবেন।’
আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, ‘সিকিউরিটি সবার জন্য। এতে সুবিধা হলো ভিআইপি, এয়ারলাইন্সের ক্রু, বিমানবন্দরের স্টাফদের সিকিউরিটি স্ক্রিনিং হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীদের লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর চাপও কমেছে।’