রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এ কথা জানা গেছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত কমিটির আগের বৈঠকে ব্যাটালিয়ন আনসার ফোর্সকে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য মাদকদ্রব্য আইনে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে পরবর্তী বৈঠকে প্রতিবেদন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ থেকে রবিবারের বৈঠকে তা দাখিল করা হয়।
অবশ্য ওই বৈঠকে কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খাঁন কামাল আনসারদের মাদকবিরোধী অভিযানে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে কমিটির সদস্য আফছারুল আমীন এর বিরোধিতা করেন।
প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ ও ব্যাটালিয়ন আনসার অ্যাক্ট ১৯৯৫ তুলে ধরে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য আইন অনুসারে সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন কোনও ব্যক্তি, পুলিশের উপ-পরিদর্শক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ল্যান্স নায়েক বা তদূর্ধ্ব কোনও অফিসার অথবা কোস্টগার্ড বাহিনীর পেটি অফিসার মাদকদ্রব্য অপরাধ সংক্রান্ত অপরাধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। বিনা পরোয়ানায় তল্লাশির ক্ষমতা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ন্যস্ত। ব্যাটালিয়ন আনসার অ্যাক্ট অনুযায়ী এ বাহিনীকে ডিসিপ্লিন ফোর্স হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই তাদের এ দায়িত্ব দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না।
‘ডোপ টেস্ট’ প্রবর্তনে অগ্রগতি
এদিকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব শ্রেণির সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে ‘ডোপ টেস্ট’ অন্তর্ভুক্তির জন্য সব বিভাগ মন্ত্রণালয়কে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডোপ টেস্ট বিধিমালার একটি খসড়া প্রণয়ন কার্যক্রম চলমান আছে। ১০২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মাদকাসক্ত শনাক্তকরণে ডোপ টেস্ট প্রবর্তন’ শীর্ষক প্রকল্প (জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২৪) হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি পুনর্গঠন কার্যক্রম চলমান আছে।
এদিকে রবিবারের বৈঠকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সব নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট কার্যকরভাবে চালু রাখার লক্ষ্যে মনিটরিং সেল গঠনসহ এ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
মশক নিধন কার্যক্রম সারা বছর চালু রাখার সুপারিশ
বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাসিক সমন্বয় সভা এবং দেশব্যাপী এডিস মশক নিধনে চলমান কার্যক্রম সারা বছর অব্যাহত রাখতে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটি সাধারণ কয়েদি থেকে মাদকাসক্ত কয়েদিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে পৃথক করতে এবং প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির সুপারিশ করে। এছাড়াও দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যুব সমাজকে এ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করে।
কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি’র সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা, মো. ফরিদুল হক খান, নূর মোহাম্মদ ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ অংশ নেন।