জামালপুরের সেই ডিসি’র ঘটনা তদন্তের সময় বাড়লো ১০ দিন

জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর (ফাইল ছবি)জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের ঘটনা তদন্তের সময় বেড়েছে আরও ১০ কার্যদিবস। রবিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মুশফিকুর রহমানকে প্রধান করে মন্ত্রিপরিষদের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়। রবিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ছিল সেই ১০ কার্যদিবসের শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি কমিটি।
কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তদন্ত কমিটি গঠনের পর কমিটির অন্য তিন সদস্য—জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারের একজন প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করে পাঠানোসহ তাদের একত্রিত করে বসতে কমিটির কিছু সময় পার হয়ে গেছে। এর ফলে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করা যায়নি। তাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে সময়ের আবেদন করলে কমিটিকে আরও ১০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম নেপাল সফর শেষে দুপুরের পর ঢাকা ফেরেন।

এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মুশফিকুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওটিতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তার অফিসের এক নারী অফিস সহায়ককে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ ঘটনায় গত ২৫ আগস্ট জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে সরকার। কমিটিকে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে রবিবার (২৫ আগস্ট) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তদন্ত কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা) মুশফিকুর রহমানকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন প্রতিনিধি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তদন্ত কমিটির সদস্যদের কেউ উপসচিব পদমর্যাদার নিচে হতে পারবেন না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখার উপসচিব সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভিডিওটির সঠিকতা যাচাই করে কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।

কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যেই সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভিডিওটি যাচাইয়ের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত নিয়েছেন। কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট অভিমত দিতে বলা হয়েছে।