আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক রক্ষণশীল মনোভাব—এই দুই বিবদমান ব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আয়োজিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ: বাংলাদেশের অবস্থান’ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক একথা জানিয়েছেন।
এম শহীদুল হক বলেন, ১৯৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী হেনরি মরগ্যান বলেন, দেশের স্বার্থরক্ষা করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। কিন্তু ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিষেক ভাষণে রক্ষণশীল ব্যবস্থার কথা বলেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা একটি রাষ্ট্র হিসেবে এই দুই বিবদমান ব্যবস্থার মধ্যে কাজ করছি।’
তিনি বলেন, বিআরআই গোটা এশিয়া এবং ইউরোপকে নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে। এটি শুধু অবকাঠামো বিনির্মাণের জন্য করা হচ্ছে না; এটি অনেক বড় ভিশন। তিনি আরও বলেন, বিআরআইয়ের মতো আরেকটি মডেল কাজ করছে এবং সেটি হচ্ছে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি। বাংলাদেশ এরও সদস্য এবং এটি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ব্যবসাসহ বৃহত্তর রাজনীতি নিয়ে কাজ করে। এর বাইরে তৃতীয় আরেকটি মডেল কাজ করছে। এটি হচ্ছে ইউরোপ- এশিয়া সম্পর্ক; শত শত বছর ধরে এই দুই মহাদেশ একে-অপরের অংশীদার।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা এই তিনটি উদ্যোগের সবার সঙ্গে আছি, যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলো আমাদের জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করে। এর দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে আমরা কোনও সামরিক জোটে যোগ দেবো না।’
তিনি বলেন, এটি শুধু ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির বিষয় নয়। এর সঙ্গে ভূ-রাজনীতিও জড়িত। এখন ক্ষমতা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছে এবং যখন এই ঘটনা ঘটে, তখন বিভিন্ন ধরনের টেনশন হয়।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ ছাড়াই আমরা একটি বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। যুদ্ধ যখন হয়, তখন বোঝা যায় কে জিতবে কে হারবে এবং তখন অবস্থান নেওয়াটা সহজ। কিন্তু এখানে গোটা বিষয়টা খুবই ঘোলাটে।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চেয়ারম্যান বলেন, বিআরআই শুধু অবকাঠামো নির্মাণের জন্য একটি ভিশন নয়, এটি অনেক বড় এক ভিশন। তিনি বলেন, বর্তমানে ৬৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল এশিয়ার দেশগুলোয় রয়েছে এবং এর বেশিরভাগ অর্থ আছে চীনের কাছে। বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য চীন এককভাবে অর্থ জোগান দিচ্ছে এবং এর ফলে ওই দেশও উপকৃত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, চীনের গোটা ভিশনকে অনুধাবন করে সরকারের উচিত হবে বেইজিংয়ের সঙ্গে দর কষাকষি করা; যাতে আমরা লাভবান হতে পারি।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুর এলাহি বলেন, বিআরআইয়ের মধ্যে থেকে বেশিরভাগ অর্থনীতি একে-অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তিনি বলেন, আমরা সবার মতো চীন থেকে প্রচুর আমদানি করে থাকি এবং সবার মতো ইউরোপ বা আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোয় রফতানি করে থাকি। এলাহি বলেন, ‘বিআরআই ভালো, কিন্তু রফতানির জন্য আমাদের উন্নত দেশগুলোকে লাগবে।’