পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল সূত্রে জানা গেছে, মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেন স্প্যান বহন করে নিয়ে আসে সেতু এলাকায়।পরে পিলারের ওপর বসানো হয়। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ক্রেনের সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং স্প্যান বসানোর কাজ করা যাচ্ছে না। তাই আপাতত স্প্যান বসানোর কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে সেতুর অন্য কাজ চলছে।
পদ্মা সেতুতে দুই ধরনের স্প্যান বসবে। নদীর মধ্যে থাকা ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) থাকবে স্টিলের। নদীর দুই পাড়ে থাকা ভায়াডাক্টের ওপর সাতটি করে ১৪টি রেলওয়ে স্প্যান থাকবে। এছাড়া জাজিরা প্রান্তে ২৩৪টি সুপার-টি গার্ডার ও মাওয়া প্রান্তে ২০৪টি সুপার-টি গার্ডার মিলিয়ে মোট ৪৩৮টি সুপার-টি গার্ডার বসবে। এতে মোট রোডওয়ে স্প্যান হবে ৮৩টি। এ পর্যন্ত স্টিলের স্প্যান বা সুপার স্ট্রাকচার বসানো হয়েছে ১৪টি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পদ্মাসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত টেকনিক্যাল। নদীর তলদেশে মাটির স্তরের গঠন নিয়ে জটিলতা কাটিয়ে বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোতকে উপেক্ষা করে চলছে এ নির্মাণযজ্ঞ। এসব প্রতিকূলতা জয় করে মূল সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে পদ্মার দুই তীরে।’
তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুর রঙ হবে সোনালী। তবে রাতে সেতুটিতে জ্বলবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ বাতি। সেভাবেই সেট করা হবে বাতি। পদ্মা নদীর পানির স্তর থেকে ৫০ ফুট উচুতে বসানো হচ্ছে প্রতিটি স্প্যান।
পদ্মা সেতুর অগ্রগতি প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আসলে কোনও কাজ থেমে নাই। দিনরাত সেতুর কাজ চলছে। আশা করছি ২০২১ সালের জুনের আগেই পদ্মা সেতু যান চলাচলের খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।’
সূত্র আরও জানিয়েছে, রোডওয়ে স্লাবের জন্য মোট ২ হাজার ৯১৭টি প্রি-কাস্ট স্লাবের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৫৪টি স্লাব তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি স্লাব তৈরির কাজ চলছে। মূল সেতু কাজের চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। অপরদিকে নদী শাসন কাজের চুক্তি মূল্য ৮ হাজার ৭০৭ কোটি টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা।