টিআইবি'র বক্তব্য উদ্ভট ও বানোয়াট: আইইডিসিআর

আইইডিসিআরট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে  রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিট (আইইডিসিআর)।প্রতিষ্ঠানটি বলেছে,  তারা নিজস্ব পরীক্ষাগারে বায়ো এফিকেসি পরীক্ষার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত মশা রিয়ারিং (লালন-পালন) কলোনিসহ প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করে। মশারির মধ্যে ফগিং করে পরীক্ষা করা হয়— এমন বক্তব্য উদ্ভট ও বানোয়াট। কীটনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য মিথ্যা ও অমূলক।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার পক্ষে প্রতিবাদে বলা হয়েছে,  টিআই-এর ঢাকা শহরে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়, শীর্ষক প্রতিবেদনে আইইডিসিআর সংক্রান্ত অংশের প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।

আইইডিসিআর বলছে, কীটনাশক পরীক্ষায় আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন প্রটোকল অনুসরণ করে। ঢাকার বাইরে থেকে মশা এনে পরীক্ষা করা হয় এ রকম বক্তব্য ঠিক নয়। এসব  পরীক্ষা মূলত প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত মশা ও  লার্ভার ওপর করা হয়ে থাকে। আইইডিসিআর সময়ে সময়ে ভেক্টর সার্ভিল্যান্স/গবেষণা করে থাকে এবং সঙ্গত কারণেই তখন ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে মশা এনে তা করা হয়।

আইইডিসিআর কোন কোম্পানির  সরাসরি পাঠানো  কীটনাশক পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য গ্রহণ করে না। পরীক্ষার জন্য উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগ,  সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড থেকে পাঠানো নমুনা কোড নম্বরের মাধ্যমে মাসকিং পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়। এই পদ্ধতিতে কোনোভাবেই কোম্পানি বা সংস্থার নাম জানা সম্ভব নয়। অতএব নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থের মাধ্যমে সনদ প্রদান কিংবা পরীক্ষা না করে প্রতিবেদন দেওয়া সংক্রান্ত প্রকাশিত বক্তব্য মিথ্যা ও  আইইডিসিআর-এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

প্রতিবাদলিপিতে তারা বলে, আইইডিসিআর এ কর্মরত চিকিৎসকগণ জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পড়াশোনায় কীটতত্ত্ব বিষয় অন্তর্ভুক্ত। কীটনাশক পরীক্ষার সঙ্গে  সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মচারীরা  দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়,  আইইডিসিআর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের  অপেশাদারী এবং ভুল প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।