ইকুয়েশনে পরিবর্তন হওয়ায় ক্যাসিনোতে পুলিশের অভিযান: আনু মুহাম্মদ

আনু মুহাম্মদরিকশা, ভ্যান, সিএনজি, বাস—সব জায়গা থেকে এখন চাঁদাবাজি চলে বলে অভিযোগ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘আগে ক্যাসিনো চলতো পুলিশ প্রটেকশনে, তারা এর ভাগ পেতো। এখন হয়তো কোনও ইকুয়েশনে পরিবর্তন হয়েছে, তাই পুলিশই এখন অভিযান চালাচ্ছে।’ শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এই অভিযোগ করেন।

‘নাগরিক ছাত্র ঐক্য’ আয়োজিত ‘শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘সান্ধ্যকালীন কোর্সের কারণে ‘উইকেন্ডে’ পাবলিক বিশ্ববিদ্যায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যাচ্ছে।’’

‘আগে যেখানে ১ লাখ টাকায় খুশি করা হতো, এখন সেখানে ১ কোটি টাকা লাগছে’ বলে অভিযোগ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে এই ‘ফেয়ার শেয়ার’ বেড়েছে।  ছাত্রলীগের চাঁদাবাজিও বেড়েছে।’’

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়, তাদের কেউ ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময়ই পান না। বর্তমান ভিসি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। আসলে যিনি শিক্ষকতা করতে চান, সরকার তাকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেন না। যিনি সরকারের আনুগত্য করবেন, সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন, তাকেই সরকার চায়। এছাড়া কোনও ভিসি দ্বিতীয় মেয়াদে থাকতে পারবেন কিনা, এটি ছাত্রলীগ অনুমোদন দেয় কিনা, তার ওপরই বিষয়টি নির্ভর করে। ভিসিরা জানেন ছাত্রলীগকে খুশি করতে না পারলে দ্বিতীয় মেয়াদে থাকা যাবে না। তখন ছাত্রলীগকে খুশি করা ভিসির নিয়মের মধ্যে পড়ে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে যত বেশি উন্নয়ন বরাদ্দ, তত বেশি ঝুঁকি মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বরাদ্দের টাকার পরিমাণ প্রকাশের পর থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগে অস্থিরতা লেগে আছে। ছাত্রলীগের দ্বন্দ্ব মারামারি ঠেকাতে গিয়ে প্রক্টরও আহত হয়েছেন।’

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক সাকিব আনোয়ারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন নগর গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক সি আর আবরার, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রমুখ।