দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, রামরু, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বিসিএএস, সিথ্রিইআর এবং দাতা সংস্থা ইউকেএইডের সহায়তায় প্রস্তুত করা ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অন দ্য ম্যানেজমেন্ট অব ডিজাস্টার অ্যান্ড ক্লাইমেট ইনডিউজ ইন্টারনাল ডিসপ্লেজমেন্ট’ শীর্ষক জাতীয় কৌশলের ওপর মতামত জানতে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
এনামুর রহমান বলেন, দুর্যোগ মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাতের সহায়তায় উপলব্ধি করেছে যে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে যা উন্নয়নের পথে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাই জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষ নিজের পরিবার চালাতে গ্রাম থেকে শহরমুখী হয়। এই পরিস্থিতির আলোকে সরকার অসচ্ছল মানুষের মধ্যে দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত সম্পর্কিত সব কার্যক্রম এই জাতীয় কৌশলের আওতায় আসবে। এর মধ্যে অন্যতম তিনটি কৌশল হলো বাস্তুচ্যুতি প্রতিকার করা, বাস্তুচ্যুতিকালীন নিরাপত্তা এবং বাস্তুচ্যুতির পর টেকসই সমাধান। এখন খসড়া জাতীয় কৌশলপত্রটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় রিভিউয়ের জন্য পাঠাবো। আমি আশা করি, জাতীয় কৌশলটি গ্রহণ করা হলে বাস্তুচ্যুতির ক্ষেত্রে আমরা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনগুলোর বিষয়ে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিতে পারবো।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ্ কামাল বলেন, বছরে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষ নদী ভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়। বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বছরে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি নদী ভাঙনের কারণে বিলীন হয়ে যায়।
রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের কৌশল রয়েছে। কিন্তু যারা দুর্যোগের কারণে ঘরবাড়ি, জমি, চাকরি হারাচ্ছেন তাদের নিয়ে আমাদের কোনও কৌশল নেই। সেই কৌশলগুলোর খসড়া আমরা প্রস্তুত করেছি। তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুতি কমানো সম্ভব কিন্তু বন্ধ করা সম্ভব না। কমানো সম্ভব যদি আমরা সঠিক নীতিমালা গ্রহণ করি। দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে যেমন বিনিয়োগ প্রয়োজন, বাস্তুচ্যুতি প্রতিকারেও বিনিয়োগের দরকার। দুর্যোগের সময় প্রস্তুতি গ্রহণ করলে খরচ ৭ থেকে ৮ গুণ বেড়ে যায়। আমরা যদি প্রতিকারে বরাদ্দ বাড়াই তাতে খরচ ৭ থেকে ৮ গুণ কমে আসবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ্ কামাল, ডিএফআইডি এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জুদিথ হাবারটসন, সিথ্রিইআর এর উপদেষ্টা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রমুখ।