ফিরোজ রশীদ তার প্রশ্নে কর প্রদানে জনগণের হয়রানির কথা তোলেন। তিনি বলেন, ‘কর দিতে মানুষ আগ্রহী। কিন্তু, হয়রানির ভয়ে কর দিতে চান না। কেউ কর দিলে ৪-৫ বছর পর সেটাকে অডিটে ফেলে দিয়ে ওই ব্যক্তিতে চিঠি দিয়ে সব ডকুমেন্ট চাওয়া হয়। চার-পাঁচ বছর আগের ডকুমেন্ট তো অনেকের কাছে থাকে না। কর বিভাগে ভৌতিক সব ঘটনা দেখা যায়।’ ফিরোজ রশীদ অডিট ব্যবস্থার নামে হয়রানি বন্ধ করে কর প্রদানের বিষয়টি সহজ করার বিষয়ে মন্ত্রীর পদক্ষেপ জানতে চান।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আয়কর বিভাগের দায়িত্ব জনগণকে সেবা দেওয়া। কিন্তু, এটা বাস্তব যে আয়কর বিভাগকে আমরা সেবা খাতে পরিণত করতে পারিনি। কেউ কর দেয়, কেউ দেয় না। যাদের ভয়ে মানুষ কর দিতে চান না তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অর্থবছরের মধ্যেই কর আদায়ে আমরা শতভাগ অটোমেশনে যাবো। আমরা অটোমেশনে গেলে এই সমস্যা থাকবে না। হয়রানি থাকবে না।’
জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিদেশে অর্থপাচার রোধে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়েও আনা হয়েছে। বর্তমানে অর্থপাচার বিষয়ক ৪০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন।’
বিএনপির রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পুঁজিবাজারে উত্থান–পতন স্বাভাবিক ঘটনা। বিদ্যমান বিও অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে সব বিনিয়োগকারী একইসঙ্গে লেনদেন করেন না। কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারী দীর্ঘ বিরতির পর বিনিয়োগ করে থাকেন।’
মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৩ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
হাজী মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে লিকুইড মানির কোনও সংকট নেই। এই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তফসিলি ব্যাংকগুলোর আবশ্যকীয় নগদ জমা সংরক্ষণের পরিমাণ ছিল ৬১ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোর জমা ছিল ৭২ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা।’
গ্রামীণ ও রবিতে প্রশাসন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে:
সরকার দলের মমতা হেনা লাভলীর প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান আছে। প্রতিষ্ঠান দুটির সব ধরনের এনওসি প্রদান বন্ধ আছে। সরকারের পাওনা টাকা আদায়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মোবাইল ফোন অপারেটর লাইসেন্স বাতিল করা হবে মর্মে পত্র দেওয়া হয়েছে।’
দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ডাক বিভাগের রাজস্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ডাক বিভাগ আয় করেছে ৪৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয় ছিল ৪০৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। তার আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ৩৭৪ কোটি ২২ লাখ টাকা।’