এর আগে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী প্রবাসীদের জীবন বিমা সুবিধার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাজেট বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিমা সুবিধা না থাকায় দুর্ঘটনা ও নানাবিধ কারণে তারা ও তাদের পরিবার প্রায়ই আর্থিক ক্ষতি ও ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। প্রবাসী কর্মীদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগের বৈঠকে বিদেশে কর্মরত কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা, নাকি ওয়েস আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে কাভারেজ প্রদান সুবিধাজনক হবে, সেই বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছিল কমিটি। সোমবারের (২৫ নভেম্বর) বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে থেকে সেই প্রতিবেদন দিয়ে বিমার আওতায় আনার পক্ষে অভিমত দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, বিদেশ গমনেচ্ছু ও প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকতর সুরক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ একটি জীবন বিমা নীতিমালা তৈরি করেছে। এই নীতিমালার আলোকে বিদেশগামী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দুই ধরনের বিমার ব্যবস্থা থাকবে। উভয় ক্ষেত্রেই বিমার মেয়াদ হবে দুই বছর। দুটির একটি বিমা সুবিধার আওতায় মাসিক প্রিমিয়াম ৯৯০ টাকার মধ্যে ৫০০ টাকা দেবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও বাকি ৪৯০ টাকা দেবেন বিদেশগামী কর্মীরা। এক্ষেত্রে বিমার কাভারেজ হবে দুই লাখ টাকা। আর ৫ লাখ টাকার অন্য বিমা কাভারেজের মাসে প্রিমিয়াম হবে দুই হাজার ৪৭৫ টাকা। প্রথমটির মতো এক্ষেত্রেও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড দেবে ৫০০ টাকা বাকি এক হাজার ৯৭৫ টাকা কর্মীকে বহন করতে হবে।
বিমা ব্যবস্থাটি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জীবন বিমা করপোরেশন বাস্তবায়ন করবে বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিমা স্কিম উদ্বোধন করবেন বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, বিমার বিকল্প হিসেবে কর্মীদের থেকে কোনও চাঁদা না নিয়ে জীবন বিমার মতো একই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার একটি বিকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে। কিন্তু বিমা ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকায় বিকল্প প্রস্তাবটি সমীচীন হবে না বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস বলেন, ‘বিদেশগামী কর্মীদের বিমা স্কিমের আওতায় আনার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কল্যাণ বোর্ডের কিছু সিদ্ধান্ত ও জীবন বিমার সঙ্গে চুক্তি করার কাজ বাকি আছে।’ ডিসেম্বরেই এই স্কিম চালু করা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।