একজন নারী কর্মীও আর লাঞ্ছিত হয়ে ফিরবে না: ইমরান আহমদ

বক্তব্য রাখছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ (ডানে)

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, আমাদের নারী কর্মীরা যারা বিদেশে আছে, আগের থেকে তারা অনেক সুরক্ষিত অবস্থায় আছে। এই অবস্থা আরও ভালো হবে— একটু সময় দিন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, একজন নারী কর্মীও ওখান থেকে আর হয়রানি, বঞ্চনা ও লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে আসবে না।’

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ইমরান আহমদ বলেন, ‘১ ডিসেম্বর থেকে নারী কর্মী ফেরত আসার সংখ্যা আর ৩০ নভেম্বরের আগ পর্যন্ত ফেরত আসা নারী কর্মীর সংখ্যার একটু তুলনামূলক চিত্র দেখা দরকার। যেভাবে বিগত ১০ মাসে সৌদি থেকে আমাদের নারী কর্মীরা ফেরত এসেছে, তার সঙ্গে ডিসেম্বরে ফেরত আসার সংখ্যার তুলনা করে দেখবেন। আমি বিশ্বাস করি,মারাত্মক একটি ব্যবধান পাওয়া যাবে। এটার সফলতা আসছে আমাদের সচিবের নেতৃত্বে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গত নভেম্বরে মাসে জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং হয়েছে। সেখানে অনেক শক্ত শক্ত কথা বলা হয়েছে। ফলাফল হলো আমাদের নারী কর্মীরা যারা বিদেশে আছে, আগের থেকে অনেক সুরক্ষিত অবস্থায় আছে। এই অবস্থা আরও ভালো হবে, একটু সময় দিন।

মন্ত্রী বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, একজন নারী কর্মীও ওখান থেকে আর  হয়রানি, বঞ্চনা, লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে আসবে না।’ 

অভিবাসী কর্মীর প্রতারিত হওয়ার চিত্র পাল্টাতে চাই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অভিবাসী কর্মীরা বেশিরভাগই প্রতারিত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জমি বাড়ি বিক্রি করে যায়। এই দৃশ্য আমি বদলাতে চাই। এই কাজে আমার শক্ত হাতিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা। আমি আপনাদের অনুরোধ করবো, যতই দালালচক্র সক্রিয় থাকুক, যেখানে যেখানে প্রতারণার কথা আসে, যেখানে লাঞ্ছনা বঞ্চনার খবর আসে, আপনারা ভালো করে প্রচার করবেন। কিন্তু আমি এও অনুরোধ করবো, খবরের সবসময় দুই দিক থাকে। দুদিক তুলে ধরলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়।’

সরকার রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল— এমনটি উল্লেখ করে ইমরান আহমদ বলেন, ‘গত বছর পর্যন্ত রেমিটেন্স ১৬ বিলিয়ন ডলার ছিল। এই বছরের প্রথম ছয় মাসের হিসেবে আমাদের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ উদ্ধৃত আছে। আমরা বিশ্বাস করি, বছর শেষ হতে হতে ১৬ বিলিয়ন ডলার ২১ বিলিয়নের ওপরে যাবে।’

দক্ষ কর্মী পাঠাতে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক উপজেলায় টিটিসি করার উদ্দেশ্য হচ্ছে— অনেক উপজেলা থেকে বিদেশ যাওয়ার মানুষ কম। আমরা চাই, বিদেশ যাওয়ার সুযোগ সারাদেশে থাকুক। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আমরা প্রতি উপজেলা থেকে এক হাজার দক্ষ কর্মী বিদেশ পাঠাবো। এই টার্গেট পূরণ করার জন্য আমাদের সব জায়গায় ট্রেনিং সেন্টার থাকা দরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা জানান, আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী মেলা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বীমা পলিসি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীর বীমা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এছাড়া, প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের হাতে শিক্ষাবৃত্তি তুলে দিবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ১৪টি দেশের ৪২ জন প্রবাসীকে সিআইপি সম্মাননা দেওয়া হবে। পাশাপাশি মুজিববর্ষ উপলক্ষে একটি ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ থাকবে মেলায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস, বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুল আলম, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবিহা পারভীন,নাজিবুল ইসলাম, শহিদুল আলম প্রমুখ।