প্রকাশিত তালিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি হচ্ছে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ সালের দালাল আইনে যাদের নামে মামলা হয়েছে তাদের নামের তালিকা। অনেকে শত্রুতা বসতও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। সেই নামগুলোও এই তালিকায় আছে। তারা দালাল আইনে অভিযুক্ত আসামি। এর মধ্যে ৯৯৬ জনকে বিভিন্ন অভিযোগ থেকে খালাসও দেওয়া হয়েছে। আমরা খালাসপ্রাপ্তদের নামের ওই তালিকাটিও নোট হিসেবে যুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পাঠিয়েছিলাম। এখন দেখছি অনেক যায়গায় এ নিয়ে নানা ধরনের মন্ত্রব্য, ভুলত্রুটি হচ্ছে।’
মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকার হিসেবে ডিক্লেয়ার করা তালিকায় ঢুকে গেলো, আপনি মর্মাহত হয়েছেন কিনা-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই মানসিকভাবে আহত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি নিজেও মর্মাহত হয়েছেন।’
এই তালিকা করার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা কোথায় খরচ হয়েছে- প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। কারণ তিনি একজন সিনিয়র মন্ত্রী।’
এই ধরনের বিতর্কিত তালিকা তৈরি করা ‘সাবোট্যাজ’ কিনা, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা খতিয়ে দেখা হবে। আমার মন্ত্রণালয় যে কাজ করেছে, তাতে ভুল হতে পারে। তবে এ ধরনের একটি বড় কাজে সেই ভুল কতখানি সহনীয় তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি একাত্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রথম পর্বের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও (প্রথম পর্ব) প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হয় বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে www.molwa.gov.bd -এ তালিকা রয়েছে।
আরও পড়ুন-
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী তালিকা চেয়েছিলেন, প্রকাশ করবেন কিনা বলেননি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী