ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল আগামী রবিবার (২২ ডিসেম্বর) ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ দুই সিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আগামী ৩০ জানুয়ারি করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ঢাকার দুই সিটির তফসিল ঘোষণার লক্ষ্যে রবিবার কমিশন সভা ডেকেছে ইসি।
ভোটের সময়সূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘রবিবার কমিশন সভার এজেন্ডায় ঢাকার দুই সিটির তফসিল ঘোষণার বিষয়টি রয়েছে। ওই দিনই তফসিল ঘোষণা করা হবে।’
ভোটগ্রহণের দিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কমিশন সভায় ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে আগাম কিছু বলা যাচ্ছে না।’
কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমিশনের ৫৩তম সভায় জানুয়ারির মধ্যে ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তারা জানান, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ বা ৩১ ডিসেম্বর ও প্রত্যাহারের তারিখ ১০ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হতে পারে। কমিশন বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
অবশ্য ইসির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ঢাকার বড় অংশ ভাসমান ভোটার। ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ করা হলে শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে তিন দিন ছুটি পাবেন নগরবাসী। এতে অন্তত ৭-১০ শতাংশ ভোটার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে পারেন। এতে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে। এমন শঙ্কায় ২৯ জানুয়ারি ভোট করার পক্ষেও যুক্তি তোলা হতে পারে কমিশন সভায়।
এই দুই সিটির পুরো নির্বাচন হবে ইভিএমে। ইভিএম পরিচালনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহায়তা নেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া শেষ হবে জানুয়ারির শেষ নাগাদ। ওই সময় হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজও শেষ করে আনছে কমিশন সচিবালয় ও ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। তৈরি করা হয়েছে খসড়া ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের খসড়া তালিকা। খসড়ায় ঢাকা উত্তর সিটিতে ১ হাজার ৩১৮টি কেন্দ্র ও ৭ হাজার ৮৪৪টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এ সিটিতে সম্ভাব্য ভোটার রয়েছেন ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন; এরমধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩০ জন ও মহিলা ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৯১ জন। অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খসড়া তালিকায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ১৫০টি ও ভোটকক্ষ ৬ হাজার ৬২২টি। দক্ষিণ সিটির সম্ভাব্য ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮৬ জন; এরমধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭ জন ও মহিলা ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৪৯ জন।
কমিশন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যমান ভোটার তালিকায় এ দুই সিটিতে ভোট হবে। এর ফলে ভোটার তালিকায় হালনাগাদে অন্তর্ভুক্ত নতুন ভোটাররা এ নির্বাচনে প্রার্থী বা ভোটার হতে পারবেন না।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে আইনগত কোনও জটিলতা নেই বলে জানিয়েছে ইসি সচিবালয়। কর্মকর্তারা জানান, ইসি সচিবালয় থেকে আইনগত মতামত জানতে চেয়ে চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলেছে, ঢাকার দুই ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনগত জটিলতা এবং আইন অনুযায়ী নির্বাচন করতে বাধা নেই।