২০২০ সালের মধ্যে এক লাখ শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে প্রত্যাহার

555চলতি অর্থবছরের মধ্যে ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ খাতকে শিশুশ্রম-মুক্ত ঘোষণা করতে কাজ করছে সরকার। এর মধ্যে ৫টি খাতের ঘোষণা খুব শিগগিরই আসবে। রাজধানীর বিজয়নগরে নবনির্মিত শ্রম ভবনের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদের সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এসব কথা বলেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলামের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইএলও কনভেনশন ও বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪-১৮ বছরের শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ নয়, এমন কাজে মা-বাবাকে সহযোগিতা করতে পারবে।
তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম কমেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম রয়েছে, এটি অস্বীকার করা যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে নেওয়া প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ১ লাখ শিশুকে প্রত্যাহার করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ খাত এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সব খাতকে শিশুশ্রম-মুক্ত করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
সভায় জানানো হয়, ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে জাহাজভাঙা শিল্প, ট্যানারি ও চামড়াজাত শিল্প, সিল্ক, কাচ ও সিরামিক শিল্পকে শিশুশ্রম-মুক্ত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর।
মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজমের সঞ্চালনায় সভায় অতিরিক্ত সচিব মোল্লা জালাল উদ্দিন, ড. রেজাউল হক, সাকিউন নাহার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায়, শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, বিকেএমইএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলে শামীম এহসান, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের শ্রম উপদেষ্টা কে এস সাইফুদ্দিন, জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সুরাইয়া আক্তার, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন খান, জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম, আইটিইউসি-এর সাধারণ সম্পাদক কামরুল আনামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।