শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় স্বাধীনতাবিরোধীদের এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তা ত্রুটিপূর্ণ। রাজাকারের তালিকায় কোনও মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কারও নাম যুক্ত করা গুরুতর অপরাধ। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনা কেবল মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানই করা নয়, বরং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক গোটা জাতিকে অপমান করা। তাও আবার বিজয়ের মাসেই এমন ঘটনা ঘটেছে।’
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বলেন, ‘শুধু আমলাদের হাতে এ ধরনের গবেষণার কাজ ছেড়ে না দিয়ে এই কাজে যুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকদের যুক্ত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, জেলা প্রশাসক নাকি তাকে সাহায্য করেননি। আমরা পাল্টা জবাব দিয়েছি, জেলা প্রশাসকের কাজ কি জেলায় জেলায় রাজাকার খুঁজে বেড়ানো? মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে বেড়ানো? ভুক্তভোগী খুঁজে বেড়ানো? এটা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নয়।’
প্রত্যেক জেলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমরা যেসব বই প্রকাশ করেছি, সেখানেই তো রাজাকারদের তালিকা রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার বলেন, ‘দোষীদের বিরুদ্ধে যদি মামলা করতে হয়, তবে সেটি সরকার করবে, আমরা নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর মেয়ে ডানা নাজরিন প্রমুখ।