‘গণমাধ্যমকর্মীদের নৈতিকতা ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে’

‘ওরিয়েন্টেশন ফর টিউটোরিয়াল কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট অন মিডিয়া এথিক্স অ্যান্ড মিডিয়া ল’ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরাকর্মক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতন থাকা জরুরি বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর যুগোপযোগী গণমাধ্যম চর্চায় নতুন প্রজন্মের সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সংশ্লিষ্ট আইন, নীতি, নৈতিকতা ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’ রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) গুলশানে আর্টিকেল নাইনটিন আয়োজিত ‘ওরিয়েন্টেশন ফর টিউটোরিয়াল কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট অন মিডিয়া এথিক্স অ্যান্ড মিডিয়া ল’ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।  

আসিফ নজরুল বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বাংলাদেশও এ প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। ফলে গণমাধ্যমকর্মীদের  পেশাগত ক্ষেত্রে ক্রমাগত নতুন নতুন ইস্যু ও কৌশল চর্চার সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীদের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবহার, সাংবাদিকতায় নীতি-নৈতিকতার প্রয়োগ, নিউ মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বহুমুখী ঝুঁকিসহ অন্যান্য বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতন থাকা জরুরি হয়ে উঠছে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জার্মানিভিত্তিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ডয়চে ভেলে অ্যাকাডেমি ও আর্টিকেল নাইনটিন ‘যোগাযোগ কৌশল প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক একটি অনলাইন কোর্স চালু করতে যাচ্ছে। ৩০ ঘণ্টার (১০ সপ্তাহের মধ্যে) এই কোর্সে গণমাধ্যমের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবহার, সাংবাদিকতায় নীতি-নৈতিকতার প্রয়োগ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আর্টিকেল নাইনটিনের সিনিয়র কনসালটেন্ট রুবায়েত মল্লিকা রহমান বলেন, ‘এই অনলাইন কোর্স করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ফেক বা ভুয়া তথ্য, প্রাইভেসি, ডাটা প্রটেকশন ইত্যাদি বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সজাগ ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবেন। এই কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীরা জবাবদিহিতা, সুশাসন, কর্মপরিবেশ, সাংবাদিকতার নীতি-নিয়ম, সত্যবাদিতা, নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতার নীতিমালা বিষয়ে জানতে পারবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আর্টিকেল নাইনটিনের প্রোগ্রাম অফিসার শাহনেওয়াজ, সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর মো. তৌফিক আহমেদ, স্টেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষক ওয়াশিক মোহাম্মদ ইসতিয়াক প্রমুখ।