মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
২০১৯ সাল কেমন গেলো, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বছরজুড়ে আমাদের দলের সব সহযোগী সংগঠনের সভা-সম্মেলন করেছি। ২৯টি জেলার সম্মেলন করেছি। এখন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। সবমিলিয়ে আমার অসুস্থতাজনিত সময় বাদ দিয়ে বাকি সময়টা ভালোই কেটেছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন সরকারে নতুন মুখ এসেছে। তাদের পারফরম্যান্সও ভালো। তারপরও বলবো কিছু ভুলভ্রান্তি ও ব্যর্থতা আছে। এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে আজ ২০তম স্প্যান বসেছে। এখন থেকে প্রতি মাসে তিনটি করে স্প্যান বসবে। মেট্রোরেলের অগ্রগতি দেখতে আগামীকাল বুধবার উত্তরায় যাবো। বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেলের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। মেগা প্রকল্পগুলো এগিয়ে যাবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন বছরের প্রথম নির্বাচন হলো সিটি নির্বাচন। এই নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে।’
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আমরা একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে চাই। রেজাল্ট যাই হোক আমরা মেনে নেবো। তবে আমরা বিজয়ের জন্য কাজ করছি। ইতোমধ্যে দুই সিটি নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিটি করেছি এবং প্রথম দিন থেকেই আমরা প্রচারে নামবো।’
ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল অভিযোগ করেছেন ইভিএম পদ্ধতি সঠিক নয়, এ বিষয় জানতে চাইলে ওবায়দুল বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে তো মিল নেই। তাদের একেক নেতা একেক কথা বলেন। তারা নির্বাচনে এসেছেন এবং বলেছেন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবেন। তারপরও এত কথা আসে কেন?’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতিকে ত্রুটিযুক্ত করার কোনও কারণ নাই। এতে টেম্পারিং করারও কোনও সুযোগ নেই। বিএনপির পুরনো অভ্যাস, নির্বাচনের আগেই তারা হেরে যায়। তারা নির্বাচনের আগেই বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, কারচুপি হয়েছে, কিন্তু পরে দেখা যায় নির্বাচনে তারা জয়ী হয়েছে, যেমন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন।’
সরকার কি এমন কোনও কাজ করবে যাতে বিরোধী দল তাদের আস্থায় নেয়, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্বের কোন দেশে বিরোধী দল সরকারকে আস্থায় নিয়েছে? সব বিরোধী দল সরকারকে আস্থায় নিলে কি বিরোধী দলের রাজনীতি থাকে?’
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে কমিশনারদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সেখানে অনেক বিতর্কিত লোক রয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত সময় রয়েছে। ভুলভ্রান্তি হলে শোধরানোর সুযোগ আছে।’