ভারতের ভিসা স্থগিত: তবুও বিক্রি হচ্ছে মৈত্রীর টিকিট

মৈত্রী এক্সপ্রেস

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ১৩ মার্চ (শুক্রবার) রাত ১২টা থেকে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের পর্যটক ভিসা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। প্রতিবেশী দেশটির  কাছ থেকে এমন স্পষ্ট ঘোষণা আসার পরেও এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। তবে পরিবহন মালিকরা বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মধ্যরাতের পর থেকে বাসের টিকিট বিক্রি ও চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার রেল ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, ভারত প্রবেশে যাদের আগের ভিসা রয়েছে তারা মৈত্রী এক্সপ্রেসে ট্রেনের টিকিট নিতে পারবেন। টিকিট বিক্রি অব্যাহত থাকবে। শুধু নতুন ভিসা দেওয়া হচ্ছে না এতটুকু জানতে পেরেছি। তবে পুরানো ভিসাধারীরাও যেতে পারবে না, ভারত এমন কিছু পরিষ্কার করেনি। আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি, পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবো।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভারতগামী যাত্রীদের বিষয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর পর্যন্ত আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল টিকিট বিক্রি চলবে। যাদের ভিসা আছে তারা চাইলে টিকিট নিতে পারবে। যদি ইমিগ্রেশনে ভারত কোনও সমস্যা না করে তবে তারা যেতে পারবেন। যদি ভারত ইমিগ্রেশন পাস না দেয়, তবে জনগণ এমনিতেই যেতে চাইবে না। যাত্রী না থাকলে আমরা ট্রেন চালাবো না। তবে দুপুরের পর আমাদের রেল কর্তৃপক্ষ একটি মেসেজ পেয়েছেন যে তারা (ভারত) আগের ভিসাধারীদেরও প্রবেশ করতে দেবে না।  কিন্তু, এখন পর্যন্ত (সন্ধ্যা সোয়া সাতটা) টিকিট বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

পরে যোগাযোগ করে জানা গেছে, রাতেও এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বাস পরিচালনাকারী একমাত্র বেসরকারি কোম্পানি শ্যামলী পরিবহন তাদের টিকিট বিক্রি ও বাস চলাচল বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর তাদের কোনও বাস ভারতে প্রবেশ করবে না। ওই সময়ের পরের কোনও টিকিটও বিক্রি করা হচ্ছে না।

জানতে চাইলে পরিবহনটির আরামবাগ কাউন্টার ম্যানেজার দয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাত থেকে আমাদের কোনও পরিবহন ভারতে যাবে না। সব বাস বন্ধ থাকবে। আমরা কালকের কোনও টিকিটও বিক্রি করছি না। যাদের ভিসা রয়েছে তারা টিকিট নেওয়ার জন্য আসছেন। কিন্তু আমাদের বাস বন্ধ থাকবে।

তবে সরকারি উদ্যোগে ভারতে বাস চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে কমলাপুর স্টেশন সূত্র জানিয়েছে, ভারতগামী যাত্রীদের জন্য মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি কমেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাউন্টার সংশ্লিষ্ট অনেকেই জানিয়েছেন, ভারতগামী মৈত্রী ট্রেনের টিকিট খুব কম বিক্রি হচ্ছে। ভিসা না দেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের একটা ঘোষণা আসার পর যাত্রী সংখ্যাও কমেছে।

প্রসঙ্গত: ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কূটনৈতিক, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা, চাকরি এবং প্রজেক্ট ভিসা বাদে বিদ্যমান সব ধরনের ভিসা স্থগিত থাকবে।