তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণের জন্য বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটা আপনারা দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু আজকেই গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে— এই বিক্ষোভের অনেকগুলোর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন ছিল।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার প্রতিটি দুস্থ মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। শুধু সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নয়— সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ বাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশনগুলো মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ত্রাণের জন্য হট লাইন ৩৩৩ খোলা হয়েছে। সেখানে কেউ ফোন করলে তাকেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন ব্যবস্থা আশপাশের কোনও দেশে করা হয়েছে— আমি অন্তত জানি না।’
ত্রাণ নিয়ে বিএনপির সমালোচনার বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যখন ব্যবস্থা করা হয়েছে, তখন প্রতিদিন বিএনপির পক্ষ থেকে সমালোচনা, আর কয়েকটি ফটোসেশন করা হয়। আপনারা জানেন, রাজশাহীতে একজন ফৌজদারি অপরাধে গ্রেফতার হয়েছে। তিনি নাকি ছাত্রদলের নেতা। তাকে ছেড়ে দিতে হবে, দাবি বিএনপির। ফৌজদারি অপরাধে কাউকে গ্রেফতার কি সরকার বন্ধ রাখবে? এটা হচ্ছে আমার প্রশ্ন।’
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, অহেতুক সমালোচনা, ফটোসেশন আর উসকানি দেওয়ায় ব্যস্ত না থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ান।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করোনা পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকাসহ সমগ্র দেশ ও অর্থনীতিকে বাঁচাবে। প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের এ বরাদ্দ দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ৫০ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য মাসে পরিবারপ্রতি ৩০ কেজি চাল ১০ টাকা কেজি দরে বছরে ৭ মাস দিচ্ছে সরকার, যা আড়াই কোটি মানুষের অন্ন সংস্থান করছে।’
ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা
ত্রাণ নিয়ে অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ৭০ হাজারের বেশি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি আছে, সেখানে কিছু লোক অনিয়ম ঘটাচ্ছে। কিন্তু অনিয়মের একটি ঘটনাও আমাদের কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের কঠোর হস্তে দমন করার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। যেখানে এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই সরকারের প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক দিনে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, এর সঙ্গে বিভিন্ন দলের সমর্থকরা যুক্ত। বিএনপির বেশ কয়েকজন এখানে আছেন। কে কোন দলের সেটি না দেখে সরকার যে ঘটনা ঘটছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আরও কঠোরভাবে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু আওয়ামী লীগের গ্রাম পর্যায়ের যে ক’জন নেতার নাম এসেছে, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কয়েকজন চেয়ারম্যান, মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।’