সাংবাদিকদের সব পাওনা পরিশোধের আহ্বান ডিইউজের

ডিইউজে

এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার হওয়ার পরও অনেক গণমাধ্যম কর্মী মার্চের বেতন না পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সংগঠনটির সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু  গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে পাওনা পরিশোধের আহ্বান জানান তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইতোমধ্যে সারাদেশে ১৬ জন সাংবাদিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ৯ জনই ঢাকার। অনেকের পরিবারের সদস্যরাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রচণ্ড স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করে গেলেও বহু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এখনও সাংবাদিক কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি পরিশোধ করেনি। এমনকি বহু প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের বকেয়াও আটকে আছে। দেশের প্রচলিত এবং শ্রম আইনে যা অন্যায়, অমানবিক ও অপরাধের শামিল। নানা অজুহাত দেখিয়ে কয়েকটি দৈনিকের প্রিন্ট ভার্সন ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান আবার বেতন কমিয়ে আনারও পায়তাঁরা করছে।

করোনার মতো ভয়ঙ্কর দুর্যোগ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সাপোর্ট ছাড়া সাংবাদিকরা শত ঝুঁকির মধ্যেও কাজ করছেন কেবলমাত্র পেশাগত দায়িত্ববোধ, পরিবারের ভরণপোষণের আর্থিক সুরক্ষা, প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রের কথা ভেবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে,  দেড় মাস পার হয়ে যাওয়ার পরেও বেশিরভাগ গণমাধ্যমে এখন পর্যন্ত মার্চের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। অথচ সবাই অবগত রয়েছেন করোনার পরিপ্রেক্ষিতে জীবন যাত্রার ব্যয় অনেকাংশে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতিটি দিন পার করতে হিমশিম খাচ্ছেন বেশিরভাগ সাংবাদিক পরিবার। তার মধ্যে আবার যারা কিছুটা অসচ্ছল ও কম বেতনধারী, তাদের অবস্থা খুবই বেদনাদায়ক ও নাজুক।

বিবৃতিতে দাবি জানিয়ে বলা হয়, দুর্যোগ সময়ে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতি কর্মদিবসের জন্যে বাড়তি একদিনের সমপরিমাণ ঝুঁকি ভাতা গণমাধ্যম মালিকদের প্রদান করতে হবে। নিকট অতীতেও হরতালের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দায়িত্ব পালনকারীদেরও ঝুঁকি ভাতা প্রদান করা হতো। করোনাভাইরাসের জন্য দেশব্যাপী ছুটি চলাকালে সাংবাদিকদের নিরাপদে কমর্স্থলে আনা নেওয়ার জন্যে পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এই দুর্বিসহ অবস্থায় মার্চের বেতন এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে বকেয়াসহ পরিশোধ করা না হলে, ডিইউজে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়াসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি অবগত করতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি করা হয়।