২০০ কোটি টাকার হারভেস্টার ও রিপার বিতরণ উদ্বোধন

২০০ কোটি টাকার হারভেস্টার ও রিপার বিতরণ উদ্বোধনপ্রধানমন্ত্রীর ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকিসহ মোট ২০০ কোটি টাকা মূল্যের হারভেস্টার ও রিপারসহ কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের মাঝে বিতরণ কাজ উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানও উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় হাওরে কৃষক ও শ্রমিকদের ধান কাটায় উৎসাহ দিতে এবং বোরো ধান কাটার অগ্রগতি পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ডুংরিয়া পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যেও হাওরের বোরো ধান কাটার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকদের আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকরা এসে ধান কাটছেন। পাশাপাশি হাওরের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ধান কাটার যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশে হাওরের কৃষক যাতে সহজে যন্ত্রপাতি কিনতে পারে সেজন্য যন্ত্রের দামের ৩০ শতাংশ দেয় কৃষক এবং ৭০ শতাংশ দেয় সরকার। একই সঙ্গে দেশের অন্য এলাকা থেকে হাওরের আগাম বোরো ধান কাটার জন্য কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে ইতোমধ্যে হাওরের ৬৫ শতাংশ বোরো ধান কৃষক ঘরে তুলতে পেরেছেন। সুনামগঞ্জসহ অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ৭৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সারা দেশে ধান কাটা সহজতর করতে মোট ২০০ (আগের ১০০ ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১০০) কোটি টাকার মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ৩০০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৯৩৪টি রিপার, ২২টি রাইস ট্রান্সপ্লানটারসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকের কাছে সম্প্রতি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

হাওরের ধান কাটা পরিদর্শন শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘স্বাস্থ্য এবং কৃষি খাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এই দুটি খাত একে অপরের পরিপূরক। স্বাস্থ্য ও কৃষি ছাড়া বাঁচা যাবে না। সেজন্য আগামী বাজেটে কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ বাড়ানো হবে, যাতে কৃষিকে আধুনিকায়ন ও যান্ত্রিকীকরণ করে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যায়।’

পরে কৃষিমন্ত্রী ও পরিকল্পনা মন্ত্রী কৃষকদের মাঝে সাবান, মাস্ক, গামছা ও লুঙ্গি বিতরণ করেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুরক্ষার সঙ্গে কৃষি কাজ চালিয়ে যেতে হবে, যাতে করোনা পরিস্থিতিতেও কৃষি উৎপাদন অব্যাহত থাকে। কেউ অসুস্থ বা করোনায় আক্রান্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতাও দেওয়া হবে।’

পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, মুহিবর রহমান মানিক, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামিমা শাহরিয়ার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ,পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ সফর উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।