ভারত থেকে সড়কপথে দেশে ফিরতে আবেদন করতে হবে দূতাবাসে

বাংলাদেশ হাইকমিশন, দিল্লি (ছবি: সংগৃহীত)বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আকাশপথে দেশে ফেরানো হচ্ছে বাংলাদেশিদের। তবে কেউ সড়কপথে ফিরত চাইলে আবেদন করতে হবে ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারত সরকার ঘোষিত লকডাউন ৩ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দেশটির বিভিন্ন রাজ্য এই সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাব করেছে। এ কারণে বিমান, রেল ও গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিলম্ব হতে পারে। তাই যেসব যাত্রী ভারত থেকে বিভিন্ন কারণে সড়কপথে দেশে ফিরতে চান, বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও রোগীদের ক্ষেত্রে সড়কপথে ভ্রমণে চিকিৎসকের অনুমতি গ্রহণসহ নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য শর্ত পালন সাপেক্ষে বাসযোগে ভ্রমণের অনুমোদন প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গন্তব্যের দূরত্ব এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বর্তমানে কোনও ছোট যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকতে পারে।

কোনও প্রতিষ্ঠিত, নিবন্ধিত পরিবহন সংস্থার পক্ষ থেকে সড়কপথে ভ্রমণের জন্য যাত্রীদের তালিকা, যানবাহন ও চালকদের বিবরণ, ভ্রমণপথের বর্ণনা, যাত্রা আরম্ভ, পথে যাত্রাবিরতি ও গন্তব্যে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়সহ বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন। এসব তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে। যেসব বাংলাদেশি সড়কপথে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক, তারা সহযাত্রীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রমণের জন্য প্রতিষ্ঠিত, নিবন্ধিত পরিবহন সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি পাঠালে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ মিশনগুলোর ব্যবস্থাপনায় আগামী এক সপ্তাহে কলকাতা (১ ও ৩ মে), দিল্লি (২ ও ৫ মে), মুম্বাই (৩ মে) এবং চেন্নাই (৩০ এপ্রিল, ১ মে ও ২ মে) থেকে মোট আটটি বিশেষ ফ্লাইটে সহস্রাধিক বাংলাদেশি দেশে ফিরবেন। চেন্নাই থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং অন্যান্য শহর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করছে। চিকিৎসাধীন রোগী ও বিশেষ পরিস্থিতিতে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জন্য মানবিক কারণে এই উদ্যোগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে।