উত্তরবঙ্গে যেন মঙ্গা ফিরে না আসে: প্রধানমন্ত্রী

জসউত্তরবঙ্গে যাতে মঙ্গা ফিরে না আসে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মঙ্গা যাতে আর ফিরে না আসে সেভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে। সোমবার (৪ মে) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। কুড়িগ্রাম ছাড়াও পঞ্চগড়, নীলফামারী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উত্তরবঙ্গের একসময়কার মঙ্গা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কুড়িগ্রাম ছিল কুঁড়ে (অলস) গ্রাম। আমরা বলতাম কুইড়্যা গ্রাম। চাইতেও জানে না। না রাস্তাঘাট, না কিছু। নদী পার হয়ে সব জায়গায় যেতে হয়েছে। এখন তো ৬ ঘণ্টার মধ্যে চলে আসতে পারে (ঢাকায়)। এরকম ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। কাজেই আপনাদের বলবো, মঙ্গা যেন আবার ফেরত না আসে।

প্রধানমন্ত্রী তার চিলমারী যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, নদীর পাড় ধরে কয়েক মাইল হেঁটে চিলমারী পৌঁছেছিলাম। রাজিবপুর গেছি, কিছুই নেই। একটা রিকশাও নেই। যেখানে যাতায়াতের কিছু ছিল না, সেখানে ব্রিজ করে দিয়েছি।

কুড়িগ্রামের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা আমার আইডিয়া। আমি বলেছি এটা হয়ে যাবে। আইন পাস করে এটা করে দেবো। চিলমারী বন্দরের কাজও আমরা শুরু করেছি। করোনাভাইরাসের কারণে সেটা আটকে গেল। তবে সেটা শুরু হবে। নদীগুলো ড্রেজিং করা হবে। আরও অনেক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া আছে। কুড়িগ্রাম এখন খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। এটা জেনে আমি আনন্দিত এবং এটা ধরে রাখতে হবে। এখানে ফসল উৎপাদনটা বহুমুখী করতে হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমি চাই কুড়িগ্রামের কুঁড়েমি দূর হোক। আরও উন্নতি হোক। মানুষ ভালো থাকুক। মঙ্গা যেন আবার ফিরে না আসে। আবারও বলবো কুড়িগ্রামে যেন মঙ্গা না ফিরে আসে। সেভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে।’

এর আগে ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধনী বক্তব্যে করোনা সংকটের মধ্যে রংপুরে যেন আবার মঙ্গা ফিরে না যায় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ এলাকায় যেন আবার মঙ্গা ফিরে না আসে, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। রংপুর অঞ্চলে যদি দুস্থ লোক থাকে, তাদের সাহায্য করা আমাদের কর্তব্য। আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য মজুত আছে। কোনও মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়। আর নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেকেরই হয়তো কিছু অসুবিধা থাকতে পারে, যারা হাত পাততে পারে না, তাদের সহযোগিতার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পুলিশ খুবই ভালো কাজ করছে। পুলিশ সারা বাংলাদেশে চমৎকার কাজ করে যাচ্ছে। ধন্যবাদ পুলিশ বাহিনীকে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েকজন তো মারাই গেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমি মনে করি, করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বর্ডার গার্ড, আনসার, প্রশাসন যে যেখানে আছে প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কনফারেন্সে নীলফামারীর পুলিশ সুপার দুটি চ্যালেঞ্জের কথা বলেন। সীমিত পরিসরে নীলফামারীতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইপিজেডসহ অন্যান্য কারখানা, বাজার, ব্যাংক-বিমাসহ যেসব জায়গায় লোকসমাগম বেশি হয় সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও করোনাকাল দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য সহায়তার ক্ষেত্র বাড়বে। সেক্ষেত্রে ত্রাণ বিতরণ আরও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।