সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'আইইডিসিআর-এর বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
আইইডিসিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৭৭৯ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ১৮৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯০ জন। প্রতিদিন গড়ে আক্রান্তর সংখ্যা বেড়েই চলছে।
আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনা আক্রান্তের মধ্যে ঢাকা জেলায় রয়েছে পাঁচ হাজার ৮৪২ জন। আবার ঢাকায় পাওয়া করোনা রোগীর মধ্যে মহানগরীতে পাঁচ হাজার ৬৭৪ এবং মহানগরীর বাইরের উপজেলাগুলোতে ১৬৮ জন।
আক্রান্তের সংখ্যা শতক পেরুনো অন্য ৮টি জেলা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ( এক হাজার ৭২ জন), গাজীপুর (৩২৮ জন), কিশোরগঞ্জ (২০২ জন), ময়মনসিংহ (১৯৮ জন), মুন্সীগঞ্জ (১৭০ জন), নরসিংদী (১৬৭ জন), কুমিল্লা (১৩০ জন) চট্টগ্রাম (১১২ জন)।
এছাড়াও আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধশতাধিক পেরিয়েছে এমন জেলার সংখ্যা ৮টি। এগুলো হচ্ছে রংপুর (৮২ জন), জামালপুর (৭৯ জন), যশোর (৭৫ জন), হবিগঞ্জ (৭০ জন), নেত্রকোনা (৬২ জন), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (৫৬ জন), শরীয়তপুর (৫৪ জন), মাদারীপুর (৫৩ জন)।
আইইডিসিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাকি জেলাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে, গোপালগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরে ৪৫ জন করে, যশোরে ৪৪ জন, কক্সবাজারে ৪০ জন, চাঁদপুরে ৩৭ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫ জন, জয়পুরহাটে ৩৪ জন, ঝিনাইদহ ও বরগুনায় ৩৩ জন করে, নীলফামারীতে ৩১ জন, টাঙ্গাইলে ৩০ জন, মৌলভীবাজার ও দিনাজপুরে ২৯ জন করে।
৩০ জনের নিচে করোনা আক্রান্ত জেলাগুলো হচ্ছে, মানিকগঞ্জ, পটুয়াখালী সিলেট ও শেরপুরে ২৭ জন করে, রাজশাহীতে ২৬ জন, গাইবান্ধায় ২৪ জন, রাজবাড়ীতে ২৩ জন, নোয়াখালী ও কুড়িগ্রামে ২২ জন করে, ফরিদপুরে ২১ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ জন, বগুড়া ও কুষ্টিয়ায় ১৮ জন, খুলনা ও নওগাঁয় ১৭ জন, পাবনায় ১৬ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১৫ জন, নড়াইলে ১৩ জন, নাটোরে ১১ জন, ঝালকাঠিতে ১০ জন, মাগুরা ও পঞ্চগড়ে ৮ জন, ফেনীতে ৭ জন, ভোলায় ৬ জন, সিরাজগঞ্জ, বান্দরবান, লালমনিরহাট, মেহেরপুর ও সাতক্ষীরায় ৪ জন করে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাগেরহাট ও খাগড়াছড়িতে ২ জন করে।
এদিকে আইইডিসিআরের সর্বশেষ (৬ মে) প্রতিবেদনে পিরোজপুরে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে। এই জেলায় ৪ মে’র প্রতিবেদনেও ১০ জন করোনা পজিটিভ দেখানো হয়েছিল।
কোথায় কত মারা গেছে
করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকা জেলায় এ পর্যন্ত ১০৩ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ১০০ জন ও উপজেলাগুলোতে ৩ জন। এর বাইরে নারায়ণগঞ্জে ৪১ জন, মুন্সীগঞ্জ ও কুমিল্লায় ৪ জন করে, টাঙ্গাইল, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ ও জামালপুরে ৩ জন করে, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাদারীপুর ও রাজশাহীতে দুজন করে এবং নরসিংদী, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, মেহেরপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, জয়পুরহাট ও পাবনায় একজন করে মারা গেছেন।
এ প্রতিবেদন অনুযায়ী করোনায় দেশে গত ৬ মে পর্যন্ত মোট ১৮৫ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগেই ১৫৬ জন। মৃত্যুর হার ৮৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
কোন বিভাগে কত আক্রান্ত?
আইইডিসিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট করোনা আক্রান্তের মধ্যে আট হাজার ৩৫ জন ঢাকা বিভাগে। এটি মোট আক্রান্তের ৮৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪৫৫ জন (৪.৭০%), সিলেটে ১৬১ জন (১.৬৬%), রংপুরে ২২০ জন (২.২৭%), খুলনায় ১৮৯ জন (১.৯৫%), ময়মনসিংহে ৩৬৬ জন (৪.৭৮%), বরিশালে ১২১ জন (১.২৫%) ও রাজশাহীতে ১২৮ জন (১.৩২%)।
দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলায় তিন জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।