বাম্পার ফলন হয়েছে, খাদ্যের অভাব হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার

চলতি বোরো মওসুমে সারাদেশে বাম্পার ফলন হয়েছে তাই দেশে খাদ্যের অভাব হবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। শনিবার (৯ মে) মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে নওগাঁ জেলার জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের যুক্ত হয়ে এ কথা জানান তিনি।
ভিডিও কনফারেন্সে জেলার করোনা মোকাবেলা পরিস্থিতি, চলতি বোরো ধান কাটা-মাড়াই, সরকারিভাবে ধান চাল সংগ্রহ, আম উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী। এসময় মন্ত্রী বলেন, সঠিক সময়ে নতুন ফসল ঘরে তুলতে পারলে খাদ্যের সমস্যা হবে না, বরং খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকবে।’
মন্ত্রী জানান, চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে (বোরো এবং আমন)। এছাড়া প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টন আউশ ধান উৎপাদিত হবে। এই উৎপাদন দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করেও উদ্বৃত্ত থাকবে। তাই প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকারিভাবে অন্য যেকোনও বছরের তুলনায় এবার বেশি ধান-চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। যা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় সহায়ক হবে।
শস্য সংগ্রহে যাতে কোনও অনিয়ম না হয় সেজন্য খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে বলেন মন্ত্রী। এছাড়া সংগ্রহ কার্যক্রমে সকলকে সহযোগিতা করতে এবং করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে থেকে কৃষক নির্বাচন করা হবে। যদি কোনও কৃষক তার টিকিট মধ্যস্বত্বভোগীদের নিকট বিক্রি করে তাহলে সেই কৃষকের কার্ড বাতিল করা হবে এবং সে সমস্ত মধ্যস্বত্বভোগীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘যদি কেউ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দোকান খুলেন তবে তাকে অবশ্যই সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।’ গ্রাহকদের প্রবেশের সময় হ্যান্ড গ্লাভস ও মুখে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং প্রবেশপথে হাত ধোয়ার জন্য সাবান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে তাদের প্রতি অনুরোধ জানান খাদ্যমন্ত্রী।
ভিডিও কনফারেন্সে নওগাঁ-৪ আসনের এমপি ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক, নওগাঁ-৩ আসনের এমপি সলিম উদ্দিন তরফদার, নওগাঁ-৫ আসনের এমপি ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন, পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান, জেলা সিভিল সার্জন আখতারুজ্জামানসহ সেনা, বিজিবি, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, জন প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া জেলার ১১টি উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।