শ্রমিকদের জন্য মালিক-বায়ার-সরকারের সমন্বয়ে তহবিল গঠনের দাবি

বিক্ষোভ মিছিলশ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করে গার্মেন্টস মালিক, বায়ার ও সরকারের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতির প্রাণশক্তি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও জীবিকা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিক পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল। কিন্তু এই সময় মালিকদের ভূমিকা শ্রমিক ও জাতির জন্য হতাশাজনক।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক সংগঠনটির নেতারা এই কথা বলেন। সারা দেশে পোশাক কারখানায় ব্যাপকহারে ছাঁটাই বন্ধ ও জরুরি তহবিল গঠন করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি।

সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির প্রথম থেকেই মালিক, বায়ার ও সরকারকে সমন্বিত জরুরি তহবিল গঠন করার আহ্বান করলেও তারা কর্ণপাত করেননি। এই মুহূর্তে জরুরি তহবিল গঠন সময়ের দাবি। সেই জরুরি তহবিল গঠন করে শ্রমিকদের বেতন ও কাজের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য মালিক এবং সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জুন মাস থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর থেকেই শ্রমিক ছাঁটাই ভয়াবহ মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় ১০ লাখ শ্রমিকের কাজের অনিশ্চয়তার খবর আসছে। বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

নেতারা জানান, শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের বাসা ভাড়া ও মুদি দোকানে বাকি ইত্যাদিতে জীবন হুমকির মুখে। অনেক পোশাকশ্রমিক গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। গ্রামের জীবনেও বেঁচে থাকা কঠিন, সহায় সম্পত্তিহীন এই শ্রমিকদের। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

সংগঠনের সভাপ্রধান তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, সহ-সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন দাস, অর্থ সম্পাদক প্রবীর সাহা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক প্রদীপ রায় এবং বিভিন্ন শ্রমিক অঞ্চলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।